রাজধানীর ইলেকট্রনিক্স বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল গ্যাজেটস লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে অর্থপাচার, চোরাচালান ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির তিন শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারের দুই প্রভাবশালী সংস্থার এমন সাঁড়াশি অভিযানে দেশের গ্যাজেট আমদানিকারক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অ্যাপল গ্যাজেটস লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ সাইফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগ থেকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ‘লাগেজ পার্টি’র আড়ালে বিদেশে ডলার পাঠিয়ে দামী ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন দেশে আনছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা এসব ফোন বিক্রি করে অর্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে পাচার করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাপল গ্যাজেটস অবৈধ পথে হ্যান্ডসেট আমদানি করে ‘আনঅফিসিয়াল’ হিসেবে বাজারে বিক্রি করছে। এই চক্রটি মূলত মানিলন্ডারিং করে দেশের হাজার কোটি টাকা পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রিফারবিশড বা চোরায় ফোন জনপ্রিয় ইউটিউবারদের দিয়ে এসব ফোনের রিভিউ করিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হলেও বিক্রয়লব্ধ অর্থের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে। এতে যেমন রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নড়েচড়ে বসেছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। সিআইসি সূত্র জানিয়েছে, অ্যাপল গ্যাজেটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফ মাহমুদ এবং দুই পরিচালক শরিফুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল ফারুকীর ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে তাদের সঞ্চয়ী, চলতি হিসাব, এফডিআর ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের বিবরণ দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, অ্যাপল গ্যাজেটস বছরে হাজার কোটি টাকার অবৈধ মোবাইল বিক্রি করে। প্র্রতিষ্টানটি মূলত দুবাই ও ভারত থেকে চোরাচালান নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বছরে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার মোবাইল আমদানি করেন। এসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হয় সম্পূর্ণ অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে। এর ফলে সরকার বছরে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগেজ পার্টির মাধ্যমে এই ধরণের অনিয়ম চলতে থাকলে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং প্রযুক্তি খাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ধস নামবে। তারা কাস্টমস ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন মিলিয়ে দেখা হবে। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী আয়ের সঙ্গে অসংগতি পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে।






















