নিজস্ব মহাকাশ অভিযান সম্প্রসারণ ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণাধীন গবেষণা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়া। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের প্রথম মানব হিসেবে মহাকাশে যান সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল তিনি মহাকাশ জয় করেন। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় দেশটি পিছিয়ে পরে।
২০২৩ সালের আগস্টে রাশিয়ার মানববিহীন ‘লুনা–২৫’ মহাকাশযান চাঁদে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এই ব্যর্থতা ছিল দেশটির মহাকাশ-কেন্দ্রিক কর্মসূচিতে বড় ধাক্কা। একই সময়ে মহাকাশযান উৎক্ষেপণে রাশিয়ার প্রভাবও কমেছে। বর্তমানে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস জানিয়েছে তারা ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে তারা ‘লাভোচকিন অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।
সংস্থাটি বলছে, প্রস্তাবিত কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ চাঁদে নিয়োজিত রোভার (চাঁদে বিচরণকারী বিশেষ যান) ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিতব্য ইন্টারন্যাশনাল লুনার রিসার্চ স্টেশনে ব্যবহৃত হবে।
রসকসমস কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এককালীন অভিযানের পরিবর্তে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির দিকে অগ্রসর হতে চায় রাশিয়া।
বিবৃতিতে সরাসরি ‘পারমাণবিক’ শব্দটি উল্লেখ না করলেও, দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীরা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি বাকানভ বলেন, চাঁদে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং পর্যায়ক্রমে শুক্র গ্রহে অভিযান পরিচালনা তাদের লক্ষ্য।






















