বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চিপ সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করেছে গুগল। মূলত হাই-ব্যান্ডউইডথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপ নিশ্চিত করতে না পারায় গুগলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় এ রদবদল আনা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম সিউল ইকোনমিক ডেইলি।
সংবাদমাধ্যমটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই হার্ডওয়্যারের ব্যাপক চাহিদার কারণে চিপবাজারে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গুগল তাদের নিজস্ব টেনসর প্রসেসিং ইউনিট (টিপিইউ) চালাতে প্রয়োজনীয় এইচবিএম চিপের প্রায় ৬০ শতাংশই স্যামসাং ইলেকট্রনিকস থেকে সংগ্রহ করে।
তবে চিপের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় গুগল অতিরিক্ত চিপের জন্য এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু এ দুই প্রতিষ্ঠান বাড়তি চিপ সরবরাহে অপারগতা জানালে গুগল কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, কর্মকর্তাদের সময়মতো চুক্তি না করা ও প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এমন সংকট তৈরি হয়েছে।
শুধু গুগল নয়, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সংকটে আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করতে মাইক্রোসফটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি দেশটিতে সফর করছেন।
তবে সফরগুলোয় কর্মকর্তাদের বৈঠক বেশ উত্তপ্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বৈঠকে এসকে হাইনিক্স মাইক্রোসফটের শর্ত অনুযায়ী চিপ দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক নির্বাহী রাগে বৈঠক ছেড়ে চলে যান। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার চিপ ক্রয়সংক্রান্ত কর্মকর্তারা এখন সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ায়ই অবস্থান করছেন।
বিশ্বে এআই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মেমোরি চিপ কেবল তিনটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারে। আর এ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন। আগামী এক বছরের জন্য তাদের উৎপাদন সক্ষমতা এরই মধ্যে পুরোপুরি বুক হয়ে গেছে। তাই আগে যারা চুক্তি করতে পারেনি, তাদের জন্য এখন আলোচনার সুযোগ নেই বললেই চলে।
এদিকে এইচবিএম ও এন্টারপ্রাইজ এসএসডি চিপ ছাড়া আধুনিক এআই চিপগুলো পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর তাই সংকটের ঝুঁকি কমাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালনার পরিবর্তে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে ক্রয় ব্যবস্থাপক নিয়োগ দিচ্ছে। এতে তারা সরবরাহ চেইন শক্তিশালী রাখতে চাইছে এবং ভবিষ্যতে চিপ ঘাটতি প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।






















