নির্ধারিত সময়ে অ্যাপলের নতুন চমক ‘আইফোন এয়ার ২’ বাজারে আসা নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই প্রযুক্তি বিশ্বে নানা গুঞ্জন চলছিল। পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই ধারণা ছিল, প্রথম প্রজন্মের মডেলটির ব্যর্থতার পর অ্যাপল হয়তো এই সিরিজ থেকে পিছিয়ে আসবে। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি—২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেই আসছে বহুল আলোচিত পাতলা এই স্মার্টফোন।
পিছিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ও বাস্তবতা সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অ্যাপলের দ্বিতীয় প্রজন্মের এই ‘স্লিম’ বা পাতলা ফোনটির উন্মোচন ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হয়েছিল প্রথম ‘এয়ার’ মডেলটির আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারা এবং এর নকশাগত ত্রুটি। কিন্তু চীনের জনপ্রিয় টিপস্টার ‘ফিক্সড ফোকাস ডিজিটাল’ সোশ্যাল মিডিয়া উইবোতে দাবি করেছেন, অ্যাপল তাদের আগের পরিকল্পনাতেই অটল আছে। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ফোল্ডের পাশাপাশি ‘এয়ার ২’-কেও বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে।
সমাধান হবে গরম হওয়ার সমস্যা? প্রথম প্রজন্মের আইফোন এয়ার দেখতে আকর্ষণীয় হলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। বিশেষ করে ফোনটি দ্রুত গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগেছেন ব্যবহারকারীরা। খবর গিজচায়নার।
এই সমস্যা কাটাতে ‘এয়ার ২’-তে অ্যাপল এবার ‘ভেপার চেম্বার কুলিং’ (Vapor Chamber Cooling) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে। সাধারণত গেমিং পিসি বা অত্যন্ত শক্তিশালী ডিভাইসে এই কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ফোনের পাতলা গড়ন বজায় রেখেও এর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের আরেকটি বড় অভিযোগ ছিল এর ক্যামেরা নিয়ে। একক রিয়ার ক্যামেরা অনেক গ্রাহকের কাছেই সেকেলে মনে হয়েছিল। এবারের মডেলে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করছে অ্যাপল। প্রিমিয়াম দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইফোন এয়ার ২-তে থাকছে ‘ডুয়াল-ক্যামেরা সিস্টেম’, যা প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য একটি বড় সুখবর।
১৭ই সেপ্টেম্বরের বড় চমকের আগেই ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বাজারে আসতে পারে ‘আইফোন ১৭ই’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ডিভাইসটি বর্তমানে ব্যাপক হারে উৎপাদন (Mass Production) পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। উচ্চমূল্যের ফোল্ডেবল বা আল্ট্রা-থিন ডিজাইনের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী মিড-রেঞ্জ ফোন বাজারে আনা অ্যাপলের বাজার ধরে রাখার কৌশলেরই অংশ।
প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৬ সাল হবে অ্যাপলের জন্য একটি বড় পরীক্ষার বছর। একদিকে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে প্রবেশ, অন্যদিকে ‘এয়ার’ সিরিজের ভুলগুলো শুধরে নতুনভাবে গ্রাহকদের মন জয় করার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে বড় চমকের অপেক্ষায় বিশ্ব।






















