অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কেনা বা উপহার পাওয়া মোবাইল ফোনের জন্য ‘বিশেষ নিবন্ধন সুবিধা’ চালু করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে বৈধভাবে আনা যে কোনো ফোন মাত্র পাঁচ মিনিটেই নিবন্ধন করা সম্ভব হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া হবে ঘরে বসেই
বিটিআরসি জানিয়েছে, বিদেশ থেকে আসা হ্যান্ডসেটগুলো ব্যবহারকারীরা নিজেই স্ব-নিবন্ধন (Self-registration) করতে পারবেন। গত ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার) থেকে মোবাইল গ্রাহকদের এসএমএস পাঠিয়ে এই বিষয়ে অবহিত করা শুরু হয়েছে।
যেভাবে নিবন্ধন করবেন: ১. গ্রাহককে প্রথমে বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) পোর্টালে যেতে হবে। ২. সেখানে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য দিতে হবে। ৩. প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে হ্যান্ডসেটটি নিবন্ধিত হবে এবং দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে নির্বিঘ্নে কাজ করবে।
কার জন্য এই সুবিধা?
এই বিশেষ সুবিধাটি মূলত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আনা ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিদেশ ভ্রমণ শেষে ব্যক্তিগতভাবে আনা হ্যান্ডসেট। প্রবাসীদের পাঠানো বা উপহার দেওয়া মোবাইল ফোন। পূর্বে কেনা কিন্তু কোনো কারণে নিবন্ধন করা হয়নি এমন বৈধ ফোন।
তবে বিটিআরসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত ফোনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না; তাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থেকে আনা বিপুল পরিমাণ ফোন কোনো নিবন্ধন ছাড়াই নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছিল। এতে কয়েকটি বড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে:
জাতীয় নিরাপত্তা: অনিবন্ধিত ফোনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কাজ হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
চুরি ও অবৈধ ফোন: চুরি হওয়া বা অবৈধভাবে আসা ফোনগুলো সহজেই ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছিল।
রাজস্ব ক্ষতি: নিবন্ধিত না হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিটিআরসি এই নিয়ন্ত্রিত এবং স্বচ্ছ নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এনইআইআর কি তবে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এনইআইআর (NEIR) বা মোবাইল নিবন্ধন পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল সরকার। এর ফলে অবৈধ পথে বা ‘গ্রে মার্কেটে’ আসা ফোনের দাপট কমবে এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।





















