বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন সর্বস্তরের মানুষ। আজ তাঁর ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোতে শোকাতুর পোস্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
সকাল থেকেই ফেসবুকের টাইমলাইনগুলোতে বেগম জিয়ার সাদাকালো ছবি এবং ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বাক্যে ভরে গেছে। দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, এমনকি রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা ব্যক্তিরাও তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। অনেকে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং প্রতিকূল সময়ের লড়াইকে স্মরণ করছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ তাঁদের ভেরিফায়েড পেজে শোকবার্তা দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সংস্কৃতি কর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।
ফেসবুক গ্রুপগুলোতে অনেক ব্যবহারকারী বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন। বিশেষ করে তাঁর কারাজীবনের কষ্ট এবং অসুস্থতার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অনেকে আবেগঘন পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ তাঁর দীর্ঘায়ু কামনায় করা আগের পোস্টগুলো শেয়ার করে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেগম জিয়ার ইন্তেকাল একটি গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই দুঃসময়ে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বেগম জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী তাঁর পেজে লিখেছেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, ভালো কাজগুলোকে কবুল করুন এবং জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নিন।”
জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পেয়া জান্নাতুল শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, “বেগম খালেদা জিয়া — বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় এক নাম।” সাংবাদিক পল্লব মোহাইমেন তাঁর অটল রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, “বিদায় বেগম খালেদা জিয়া। আন্দোলনে রাজপথে সংগ্রামী-আপসহীন, স্বৈরাচার উৎখাতে অটল-তুলনাহীন।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ভেরিফায়েড পেজে এক আবেগঘন বার্তায় জানান, গতকাল রাতে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান এবং শেষ সময়ে শয্যাপাশেই ছিলেন। হাসপাতাল থেকে মায়ের মরদেহ নিয়ে গুলশানের বাসভবনে যাওয়ার পথে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেটিজেনরা বেগম জিয়ার এই প্রয়াণকে দেখছেন এক ঐতিহাসিক বিদায় হিসেবে। আশা জাহিদ নামে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “শেখ মুজিব কিংবা এরশাদের খুব ভালো বিদায় হয় নাই। কিন্তু বেগম জিয়ার শেষ সময়টা তাঁকে ইতিহাসে আপসহীন তকমা দিয়ে লিখে রাখলো। এমনকি এখন আওয়ামী লীগের পেজ থেকেও তাঁর জন্য শোক প্রকাশ ও সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।”
শরিফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী লিখেছেন, “বিদায়… অভিবাদন!! বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অতন্দ্র প্রহরী, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামের অবিচল সিপাহসালার।”
আমিনুল হক, বদল খান ও জিলহজ উদ্দিনসহ অসংখ্য মানুষ ফজরের পরপরই তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকাহত হয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। ফেসবুক গ্রুপগুলোতে তাঁর কারাজীবনের কষ্ট এবং অসুস্থতার দিনগুলোর ছবি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চত্বর ও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যে শোকাতুর পরিবেশ দেখা গেছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে ভার্চুয়াল জগতেও। হ্যাশট্যাগ #BegumKhaledaZia এখন বাংলাদেশে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে।





















