প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে। এক দশক আগে যা ছিল কল্পনা, তা এখন বাস্তব। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম ‘টেকরাডার’-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল হবে প্রযুক্তি দুনিয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) থেকে শুরু করে মানবাকৃতির রোবট—সব ক্ষেত্রেই আসছে আমূল পরিবর্তন।
১. এআই হবে মানুষের ‘ছায়া’
২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল একটি টুল হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। ওপেনএআই তাদের নতুন মডেল জিপিটি-৬ উন্মুক্ত করতে পারে, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি যৌক্তিক বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে। গুগল ও ওপেনএআই-এর দ্বৈরথ চরমে পৌঁছাবে। গুগলের ‘জেমিনি’ এআই সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যাবে যে, সাধারণ সার্চ আর এআই উত্তরের পার্থক্য বোঝা কঠিন হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ মানুষের মতো চিন্তাসক্ষম ‘এজিআই’ পেতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
২. অ্যাপলের ‘স্মার্ট গ্লাস’ ও সিরি ২.০
অ্যাপলপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ সাল হতে পারে স্বপ্নের বছর। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম প্রজন্মের স্মার্ট গ্লাস বা এআর চশমা বাজারে আনবে। এটি হবে হালকা ও দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সহকারী ‘সিরি’ (Siri)-তে বড় ধরনের এআই আপডেট আসবে, যা একে আরও বেশি বুদ্ধিমান ও কার্যকর করে তুলবে।
৩. ভাঁজ করা আইফোন ও হার্ডওয়্যার সংকট
স্যামসাংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের বাজারে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে ২০২৬ সালে অ্যাপল আনতে পারে তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বা আইপ্যাড। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ হলো, ২০২৫ সালে শুরু হওয়া র্যাম ও চিপ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। অধিকাংশ উৎপাদন কেন্দ্র তাইওয়ান ও চীনে হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতিতে গ্রাফিক্স কার্ড ও পিসির দাম আরও বাড়বে। ফলে প্রযুক্তি পণ্য সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
৪. ঘরে ঘরে আসছে মানবাকৃতির রোবট?
হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট নিয়ে এখন আর শুধু ল্যাবে পরীক্ষা নয়, বরং ২০২৬ সালে এগুলো বাণিজ্যিকভাবে সীমিত পরিসরে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে পারে। যদিও এগুলো এখনো ধীরগতির, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়ায় এগুলো ঘরোয়া কাজে সাহায্য করার প্রাথমিক সক্ষমতা অর্জন করবে।
৫. এনভিডিয়ার জয়জয়কার
চিপ বাজারে এনভিডিয়ার আধিপত্য অব্যাহত থাকবে। ডেটা সেন্টার ও বড় বড় এআই প্রজেক্টে তাদের গ্রাফিক্স কার্ডের চাহিদা আকাশচুম্বী হবে। তবে সাধারণ গেমারদের জন্য এটি কিছুটা মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে, কারণ এনভিডিয়া গেমিংয়ের চেয়ে এআই সেক্টরেই বেশি মনোযোগী থাকবে।






















