যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তি যুদ্ধের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বস্তি পেল দক্ষিণ কোরিয়ার দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স। মার্কিন সরকার ২০২৬ সালের জন্য দেশ দুটির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করে বিশেষ লাইসেন্স অনুমোদন করেছে। এর ফলে কোম্পানি দুটি ২০২৬ সাল পর্যন্ত চীনে অবস্থিত তাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় মার্কিন যন্ত্রপাতি ও চিপ তৈরির সরঞ্জাম আমদানি করতে পারবে।
লাইসেন্সের নেপথ্যে যা আছে
রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ এই বিশেষ লাইসেন্স অনুমোদনের বিষয়টি জানাজানি হয়। আগে কোম্পানিগুলো ‘ভ্যালিডেটেড এন্ড-ইউজার’ (VEU) সুবিধার আওতায় কোনো আলাদা লাইসেন্স ছাড়াই সরঞ্জাম আনতে পারত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সুবিধা বাতিল করে বিষয়টিকে ‘বার্ষিক লাইসেন্স’ বা বছরভিত্তিক অনুমোদনের আওতায় নিয়ে এসেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এই বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন অনুমোদনের ফলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে না।
কেন এই শিথিলতা?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক চিপ সরবরাহের চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
মেমোরি চিপের চাহিদা: বর্তমানে এআই (AI) ডেটা সেন্টারগুলোর কারণে মেমোরি চিপের দাম ও চাহিদা দুই-ই তুঙ্গে।
উৎপাদন কেন্দ্র: স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স—উভয়েরই মেমোরি চিপ উৎপাদনের একটি বড় অংশ চীনভিত্তিক। সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে চিপ সংকট দেখা দিতে পারত।
ঝুঁকির মুখে তাইওয়ানের টিএসএমসি?
স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স ছাড় পেলেও বিশ্বের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা তাইওয়ানের টিএসএমসি (TSMC)-এর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। টিএসএমসি-এর চীনের নানজিং কারখানার জন্যও এই লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নীতিমালায় কঠোরতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে যাতে উন্নত মার্কিন প্রযুক্তি চীনের হাতে না পৌঁছায়।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
যদিও ২০২৬ সালের জন্য লাইসেন্স মিলেছে, তবে এটি মাত্র এক বছরের জন্য। এর অর্থ হলো প্রতি বছর কোম্পানি দুটিকে নতুন করে অনুমোদনের জন্য মার্কিন সরকারের কাছে ধরনা দিতে হবে। এই অনিশ্চয়তা দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানিগুলোকে ধীরে ধীরে তাদের বিনিয়োগ চীন থেকে সরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে চিপ যুদ্ধের এই টানাপোড়েনে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই কোম্পানিকে দেওয়া এই ছাড়টি কেবল সাময়িক স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





















