প্রযুক্তি বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হয়েছিল উইন্ডোজ বা ম্যাকের বিকল্প হিসেবে লিনাক্স সাধারণ মানুষের পিসিতে একসময় জায়গা করে নেবে। সরাসরি সেটি না ঘটলেও লিনাক্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘অ্যান্ড্রয়েড’ আজ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। বর্তমানে স্যামসাং ডেক্স বা মটোরোলা রেডি ফরের মতো প্রযুক্তির কল্যাণে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটগুলোই এখন পূর্ণাঙ্গ ডেস্কটপের মতো কাজ করতে পারছে।
অ্যান্ড্রয়েড সাধারণত স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড আসলে এখন চারপাশের প্রায় সব প্রযুক্তিতে মিশে আছে। গাড়ির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম থেকে শুরু করে হাতের স্মার্টওয়াচসহ অনেক কিছুই এখন অ্যান্ড্রয়েডের শক্তিতে চলছে। স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমের বাজারে এরই মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে গুগল শীর্ষ স্থানে থাকলেও ল্যাপটপ ও পারসোনাল কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কোম্পানির ক্রোম ওএস তেমন সফল হতে পারেনি। তবে গত সেপ্টেম্বরে গুগলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক অস্টারলো জানিয়েছিলেন, চলতি বছরই পিসিতেও আনা হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম।
স্ন্যাপড্রাগন সামিটে সম্প্রতি কোয়ালকমের সিইও ক্রিস্টিয়ানো আমনের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গুগলের রিক অস্টারলো। তিনি জানান, এতদিন গুগল স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড আর কম্পিউটারে ক্রোম ওএস ব্যবহার করেছে। তবে এবার নতুন এক প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করছে গুগল ও কোয়ালকম।
তিনি জানান, গুগল এখন ল্যাপটপ বা ক্রোমবুকগুলোয় আলাদা করে ‘ক্রোম ওএস’ ব্যবহারের বদলে সরাসরি ‘অ্যান্ড্রয়েড’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এটি কেবল কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, গুগল চায় সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড-ভিত্তিক ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিতে। বর্তমানে অনেক অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট ল্যাপটপের মতো কাজ করে, আবার ক্রোমবুকেও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ চালানো যায়। দুটি আলাদা প্লাটফর্ম চালু রাখার বদলে গুগল এখন অ্যান্ড্রয়েডের ভেতরেই ক্রোম ব্রাউজারের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ডেস্কটপ সংস্করণ’ তৈরির কাজ করছে।
গুগলের লক্ষ্য সব ডিভাইসের জন্য একটি সাধারণ ও শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা, যা ব্যবহার হবে অনেক সহজ ও সাশ্রয়ীভাবে।
কোয়ালকমের সিইও ক্রিস্টিয়ানো আমন বলেন, ‘এ উদ্যোগ মোবাইল ও পিসিকে একসঙ্গে আনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।’
এদিকে অ্যান্ড্রয়েড ডেস্কটপের আগমনে কম্পিউটার জগতের দুই মহারথী মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, গত বছর শেষে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের বাজারে ৭১ দশমিক ৮৫ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে আছে অ্যান্ড্রয়েড, যেখানে আইফোনের হিস্যা ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ।






















