অবৈধ মোবাইল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ডাকা ধর্মঘট ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার সকাল থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ শপিং মল ‘বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স’-এ সমবেত হয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানগুলো খুলে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে গত কয়েকদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে মোবাইল বাজার আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বসুন্ধরা সিটির মোবাইল ফ্লোরগুলোতে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অবৈধ আমদানিকারকদের গঠিত তথাকথিত ‘ব্যবসায়ী সমিতি’ দোকান বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে একে সব বড় শোরুমের ঝাঁপ খোলা হয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা চোরাই ফোনের ব্যবসা করেন না, তাই তারা সরকারের এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমকে ভয় পান না।
বসুন্ধরা সিটির একজন শোরুম মালিক বলেন, “আমরা বৈধভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে এবং বিটিআরসির অনুমতি নিয়ে ফোন বিক্রি করি। কতিপয় অবৈধ আমদানিকারক ও ল্যাগেজ পার্টির ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা আমাদের রুটি-রুজি বন্ধ রাখতে পারি না।” ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রযুক্তিগত এই সংস্কারকে স্বাগত জানান।
জানুয়ারির ১ তারিখ যমুনা ফিউচার পার্কের ব্যবসায়ীরা সাহসী অবস্থান নেওয়ার পর আজ বসুন্ধরা সিটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর রেশ ধরে মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা এবং মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের বৈধ ব্যবসায়ীরাও দোকান খোলার ঘোষণা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আজ বিকেলের মধ্যেই ঢাকার মোবাইল বাজার পুরোপুরি সচল হয়ে যাবে।
বিটিআরসি ভবনে হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
যারা দোকান খোলা রাখছেন, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
কোনো উসকানিদাতা বা হামলাকারীকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দোকানগুলো খুলে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক গ্রাহকই বৈধ ফোন কেনার জন্য মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন। প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যবসায়ীদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অবৈধ সিন্ডিকেটের কোমর ভেঙে দেবে।






















