দেশে অবৈধ বা আন-অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের বাজার এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৈধ আমদানিকারক ও অফিসিয়াল কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বছরে তারা মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকার হ্যান্ডসেট বিক্রি করে। কিন্তু বিস্ময়কর তথ্য হলো, দেশের মোট মোবাইল বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই এখন অবৈধ আমদানিকারকদের দখলে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের লেনদেন হচ্ছে অবৈধ পথে, যার পুরো টাকাই পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ৯৬ হাজার কোটি টাকার লেনদেনে কোনো বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা এলসি (Letter of Credit) ব্যবহার করা হচ্ছে না। অর্থাৎ, দেশের একটি বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি ‘হুন্ডি’ বা অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি দেশের বর্তমান ডলার সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।
তদন্তে দেখা গেছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা মূলত মধ্যপ্রাচ্য (দুবাই) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এসব ফোন সংগ্রহ করে। বিদেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেমেন্ট করার জন্য তারা ব্যবহার করছে ‘ডিজিটাল হুন্ডি’। এর ফলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ডলার দেশে না এসে বিদেশের বাজারেই থেকে যাচ্ছে, আর দেশের ভেতরে তার সমপরিমাণ টাকা লেনদেন হচ্ছে অপরাধী চক্রের মাধ্যমে।
এই বিশাল অংকের লেনদেনে সরকার এক টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না। বর্তমানে মোবাইল আমদানিতে প্রযোজ্য শুল্ক ও ভ্যাট অনুযায়ী, সরকার এই একটি খাত থেকেই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে, এসব ফোনের কোনো ডাটাবেজ বিটিআরসির (BTRC) কাছে না থাকায় অপরাধীরা খুব সহজেই ট্র্যাকিং এড়িয়ে ডিজিটাল অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, “অফিসিয়াল কোম্পানিগুলো যেখানে বিনিয়োগ করে এবং ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছে, সেখানে ৮০ শতাংশ বাজার অবৈধ হয়ে পড়া মানে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে। ৯৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়া মানে দেশের অর্থনীতির রক্তক্ষরণ।”






















