বাংলাদেশে যখন ৯৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ ফোন এবং অর্থ পাচার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সফল মডেল আমাদের সামনে নতুন পথ দেখাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো অনেক আগেই প্রমাণ করেছে যে, সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকলে মোবাইল চুরি এবং অবৈধ ব্যবসা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
অস্ট্রেলিয়াতে ফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে তা কোনো প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুত অকেজো করে দেওয়া যায়। তবে সেখানে এই কাজটি সরকার নয়, বরং পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশন (AMTA)। এটি একটি সেন্ট্রাল ব্যবস্থা যেখানে কোনো ফোন ব্লক করা হলে সেটি অস্ট্রেলিয়ার সবকটি নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অর্থাৎ, চোর যদি সিম পরিবর্তনও করে, তবুও ফোনটি আর সচল করা সম্ভব হয় না।
যুক্তরাজ্যে ফোন হারালে গ্রাহক তার নেটওয়ার্ক অপারেটরকে জানানো মাত্রই তারা ফোনের IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বরটি ব্লক করে দেয়। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, এই ব্লকিং ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী যে, নতুন কোনো সিম দিয়েও সেটি আর ব্যবহার করা যায় না। এর ফলে দেশটিতে চোরাই ফোনের কোনো পুনবিক্রয় মূল্য (Resale Value) থাকে না।
বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ ফোন চুরি হচ্ছে এবং ৯৬ হাজার কোটি টাকার যে অবৈধ বাজার গড়ে উঠেছে, তা মূলত একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার অভাবে।
কেন আমাদের এই মডেল প্রয়োজন?
১. চোরাই ফোন কেনা-বেচা বন্ধ: অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাজ্যের মতো আইএমইআই ব্লক করা শুরু হলে বাংলাদেশে ফোন চুরির প্রবণতা কমে যাবে।
২. অবৈধ ফোনের মৃত্যু: যদি বিদেশ থেকে আসা ৯৬ হাজার কোটি টাকার ফোনগুলো কোনো নেটওয়ার্কে কাজ না করে, তবে মানুষ আর অবৈধ ফোন কিনবে না।
৩. নিরাপত্তা: অপরাধীরা সাধারণত অবৈধ বা আন-অফিসিয়াল ফোন ব্যবহার করে অপরাধ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্লক ব্যবস্থা থাকলে অপরাধ শনাক্ত করা সহজ হবে।
বাংলাদেশে NEIR (National Equipment Identity Register) ব্যবস্থাটি মূলত অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের এই সেন্ট্রাল মডেলের আদলেই তৈরি। ২০২৬ সাল থেকে এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে বাংলাদেশের গ্রাহকরাও উন্নত দেশগুলোর মতো নিরাপত্তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ‘এএমটিএ’ মডেল বাংলাদেশে কার্যকর করা গেলে তা কেবল সরকারের রাজস্বই বাড়াবে না, বরং সাধারণ মানুষের ফোনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। ১৫০০ অবৈধ ব্যবসায়ীর স্বার্থের চেয়ে দেশের কোটি গ্রাহকের নিরাপত্তা এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।






















