দীর্ঘদিন ধরে ফ্লিপ ফোন বা ওপর-নিচ ভাঁজ করা ফোনের বাজারে রাজত্ব করার পর, প্রথমবারের মতো সাইড-ফোল্ডিং বা বইয়ের মতো ভাঁজ করা স্মার্টফোন আনার ঘোষণা দিল আমেরিকান টেক জায়ান্ট মটোরোলা। লাস ভেগাসের সিইএস ২০২৬ মেলায় উন্মোচন করা এই ফোনটির নাম রাখা হয়েছে ‘রেজর ফোল্ড’ (Razr Fold)। এর মাধ্যমে মটোরোলা সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামল স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ এবং গুগল পিক্সেল ১০ প্রো ফোল্ড-এর সাথে।
মটোরোলা জানিয়েছে, রেজর ফোল্ডে রয়েছে ৬.৬ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং ভাঁজ খুললে ভেতরে পাওয়া যাবে বিশাল ৮.১ ইঞ্চির ফ্লেক্সিবল ডিসপ্লে। ফোনটি বন্ধ থাকা অবস্থায় সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই ব্যবহার করা যাবে, আর খুললে তা একটি মিনি ট্যাবলেটে পরিণত হবে। যদিও মটোরোলা এখনো ফোনটির সঠিক পুরুত্ব বা ওজন জানায়নি, তবে প্রাথমিক দর্শনে একে বেশ স্লিম এবং আধুনিক মনে হয়েছে।
এই ফোনের সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘মটো পেন আল্ট্রা’ (Moto Pen Ultra) স্টাইলাস ব্যবহারের সুবিধা। মজার ব্যাপার হলো, স্যামসাং তাদের সাম্প্রতিক ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭’ থেকে স্টাইলাস ফিচারটি বাদ দিয়ে দিলেও মটোরোলা একে গুরুত্ব দিয়েছে। এই পেনের মাধ্যমে ড্রয়িং, নোট নেওয়া এবং মাল্টিটাস্কিং অনেক সহজ হবে, যা মূলত পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য বড় আকর্ষণ।
শক্তিশালী ক্যামেরা সেটআপ
ছবির মানের দিকেও কোনো ছাড় দেয়নি মটোরোলা। ফোনের পেছনে রয়েছে তিনটি শক্তিশালী ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা:
৫০ মেগাপিক্সেল সনি সেন্সর (মূল ক্যামেরা)
৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড/ম্যাক্রো
৫০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স
এ ছাড়া বাইরের পর্দায় ৩২ মেগাপিক্সেল এবং ভেতরের স্ক্রিনে ২০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা রয়েছে। ভিডিওর জন্য এতে দেওয়া হয়েছে ডলবি ভিশন (Dolby Vision) রেকর্ডিংয়ের সুবিধা।
অন্যান্য ফিচার ও বাজারজাতকরণ
রঙ: ফোনটি পাওয়া যাবে নীল (Blackened Blue) এবং সাদা (Lily White)—এই দুটি কালার ভেরিয়েন্টে।
ব্যাটারি ও চার্জিং: ৫২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার (mAh) ব্যাটারির সাথে থাকছে ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা।
এআই সুবিধা: এতে ‘ক্যাচ মি আপ’ (Catch Me Up) এবং ‘নেক্সট মুভ’-এর মতো মটো এআই ফিচার রয়েছে যা মেসেজ সামারি এবং পার্সোনালাইজড সাজেশন দেবে।মটোরোলা এখনো ফোনটির সঠিক দাম বা কবে নাগাদ বাজারে আসবে তা প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ফোনটি উত্তর আমেরিকাসহ বৈশ্বিক বাজারে মুক্তি পাবে।
মটোরোলা যেখানে তাদের সাশ্রয়ী ফ্লিপ ফোনের জন্য জনপ্রিয় ছিল, সেখানে ‘রেজর ফোল্ড’-এর মতো প্রিমিয়াম ফোন তাদের ব্র্যান্ড ইমেজে নতুন মাত্রা যোগ করবে। স্যামসাংয়ের রাজত্বে মটোরোলা কতটুকু ভাগ বসাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।






















