বাংলাদেশে অবৈধ ও আন-অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের যে বিশাল সমান্তরাল অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে মাত্র ২২ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভিওআইপি ব্যবসা থেকে স্বর্ণের চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ও রয়েছে এই তালিকায়।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট মোবাইল বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ এই সিন্ডিকেটের দখলে। বছরে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকার এই অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে।
জানা গেছে, দেশের অবৈধ ফোনের বাজার মূলত সুমাস টেক, অ্যাপল গেজেট, এসএমএস গেজেট, রিও ইন্টারন্যাশনাল, কে আর ওয়াই ইন্টারন্যাশনাল, আমিন স্টোর, ড্যাজেল, এবং টেক অ্যান্ড টক বিডি-সহ মোট ২২টি বড় আমদানিকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের একটি জোট দ্বারা পরিচালিত হয়। নামকরা শপিং মল থেকে শুরু করে অনলাইনে এরা বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
অফিসিয়াল কোম্পানিগুলো বছরে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকার ফোন বিক্রি করলেও, এই সিন্ডিকেট বছরে ৯৬ হাজার কোটি টাকার ফোন বাজারে ছাড়ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই বিশাল অংকের একটি টাকাও বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা এলসি (LC)-র মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় না। পুরো অর্থই ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ ফোন স্বর্ণ চোরাচালানের মতোই এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ, যা কেবল ‘আন-অফিসিয়াল’ শব্দের আড়ালে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিটিআরসি যখনই ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (NEIR) ব্যবস্থা কার্যকর করে চোরাই ও অবৈধ ফোন বন্ধের উদ্যোগ নেয়, তখনই এই সিন্ডিকেটটি সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে নামে। এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের কোনো স্বার্থ নেই; বরং এটি চোরাই ফোন, রিফারবিশড ফোন এবং নকল ফোন ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিন্ডিকেট মূলত: ১. রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। ২. হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দেশের রিজার্ভের ক্ষতি করছে। ৩. বৈধ দেশীয় উদ্যোক্তাদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অটোমেশন বিশেষজ্ঞ তামিম হাসানের মতে, এই ২২ জনের সিন্ডিকেট শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডিজিটাল অর্থনীতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য।





















