যুক্তরাষ্ট্রের ডাটা সেন্টারগুলোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ কমাতে নতুন একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ডাটা সেন্টারের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ছে, যা স্থানীয় জনগণের ওপর চাপ বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডাটা সেন্টার চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি প্রয়োজন হয়। ফলে অনেক এলাকায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এসব স্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে এবং পানির সংকট আরো তীব্র হতে পারে। এ অবস্থায় মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তারা নিজেদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের সম্পূর্ণ খরচ নিজ দায়িত্বে বহন করবে এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ পড়তে দেবে না। একই সঙ্গে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতারা দেশকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে দ্রুত ডাটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এসব ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে, পানি সংকট দেখা দিতে পারে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
মাইক্রোসফটের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যখন এত লাভজনক, তখন এআইয়ের জন্য বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায্য ও রাজনৈতিকভাবেও বাস্তবসম্মত নয়।’
পানির ব্যবহার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ডাটা সেন্টার যতটুকু পানি ব্যবহার করবে, তার চেয়েও বেশি পানি পুনরুদ্ধার বা পুনঃসংযোজন করা হবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ডাটা সেন্টার অঞ্চলের পানির ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অগ্রগতির তথ্যও জানানো হবে।
এছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে মাইক্রোসফট। ডাটা সেন্টার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের সুযোগ দেয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য এআই-বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ বা ‘এআই লিটারেসি’ কর্মসূচিও চালু করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়তে থাকা সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্বেগ মোকাবেলায় মাইক্রোসফটের এ উদ্যোগ প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের দায় নিজে নেয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।






















