দেশের হাজার কোটি টাকার অবৈধ মোবাইল বাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবশালী সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)-এর অন্দরে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং বিতর্কিত মোবাইল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুমাশটেক-এর প্রধান নির্বাহী আবু সাঈদ পিয়াস পদত্যাগ করেছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এনইআইআর (NEIR) বিরোধী আন্দোলনে গত কয়েক দিন ধরে পিয়াসকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না। অনেক ব্যবসায়ীর ধারণা, এনইআইআর নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং গোয়েন্দা নজরদারির কারণে নিজেকে নিরাপদ রাখতেই তিনি সিন্ডিকেট থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। মূলত নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘বৈধ’ হিসেবে টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবু সাঈদ পিয়াসের মালিকানাধীন ‘ডেক্সিম্পো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ (Deximpo International Ltd.) নিজেদের ওয়েবসাইটে দাবি করে যে তারা জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ওয়ানপ্লাস (OnePlus)-এর পার্টনার। এছাড়া তারা বিখ্যাত চাইনিজ কোম্পানি অ্যাঙ্কার (Anker)-এর জাতীয় পরিবেশক।
একদিকে বৈধ পরিবেশক হিসেবে পরিচয় দেওয়া, অন্যদিকে অবৈধ মোবাইল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকা—পিয়াসের এই দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর প্রশ্ন, তিনি কি তবে নিজের বৈধ ব্যবসা বাঁচাতে সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের বিপদে ফেলে সটকে পড়ছেন?
এমবিসিবি থেকে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে আবু সাঈদ পিয়াসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, “এমন কিছু হলে তো আমার নিজেরই বক্তব্য দেওয়ার কথা। আমি যেহেতু নিজে কোনো বিবৃতি দেইনি, তাই এটি শুধুই গুঞ্জন।”
তবে তার এই দায়সারা বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারছেন না সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা। বিশেষ করে ‘লাগেজ সোহেল’ খ্যাত আনিসুর রহমান সোহেলের অনুসারীরা পিয়াসের এই রহস্যজনক নীরবতাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ২২ জনের সিন্ডিকেটে এখন ফাটল ধরেছে। বড় বড় রাঘববোয়ালরা এখন নিজেদের ‘সাদা’ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। পিয়াসের মতো নেতারা যদি সিন্ডিকেট ছেড়ে বেরিয়ে যান, তবে এনইআইআর বিরোধী আন্দোলন অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে।






















