দেশে মোবাইল ফোন চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি) নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে এবার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এনইআইআর (NEIR) বা মোবাইল নিবন্ধন ব্যবস্থা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে সিন্ডিকেটটি এখন দেশের ব্যাংকিং খাতকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এমবিসিবি নামের এই ফেসবুক পেজটি দীর্ঘদিন ধরেই এনইআইআর প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজব ছড়িয়ে আসছে। সম্প্রতি এক পোস্টে তারা ঘোষণা দিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন কোনো ব্যবসায়ী ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবে না। তারা দাবি করেছে, যেহেতু দোকান বন্ধ তাই আয় নেই, আর আয় না থাকলে ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।
তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত চাল। ৯৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণকারী এই সিন্ডিকেটটি মূলত সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে ‘আর্থিক ব্ল্যাকমেইল’-এর পথ বেছে নিয়েছে।
হুমকিদাতা এই চক্রটি দাবি করছে, ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া মানেই তাদের ব্যবসা বৈধ।
অভিযোগ রয়েছে, এই ফেসবুক পেজটি ব্যবহার করে সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের উসকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যারা দোকান খুলতে চাচ্ছেন, তাদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও ব্যবসায়িক বয়কটের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের নেপথ্যেও এই পেজ থেকে দেওয়া বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্টের ভূমিকা ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ব্যবসায়ীদের এই হঠকারী সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগে রয়েছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, “ঋণ নেওয়া হয়েছে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিতে। আন্দোলনের দোহাই দিয়ে ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। যদি তারা কিস্তি না দেয়, তবে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, কোনো ফেসবুক পেজ বা নামসর্বস্ব সংগঠনের হুমকির মুখে এনইআইআর প্রকল্প থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। ডিজিটাল জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই যখন অবৈধ ফোনে ঘটছে, তখন এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।






















