সরকারের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম কার্যকর এবং আমদানি শুল্ক কমানোর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে বাধাগ্রস্ত করতে এবার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত স্মার্টফোন খাতের ওপর পরিকল্পিত হামলা শুরু হয়েছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টির মাধ্যমে বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং বৈধ শোরুমগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও বিনিয়োগকারীরা।
গত ১ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালায় একটি গোষ্ঠী। অভিযোগ উঠেছে, ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)-এর ব্যানারে এই মব তৈরি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং তথাকথিত সিন্ডিকেট নেতারা এখনো অধরা।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮টি স্মার্টফোন উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) রয়েছে। এই খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি। সাম্প্রতিক অরাজকতার ফলে:
উৎপাদন ব্যাহত: মব সৃষ্টি করে ভাঙচুরের কারণে অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কর্মসংস্থান ঝুঁকি: এই শিল্পে যুক্ত ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। উল্লেখ্য যে, এই কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই নারী শ্রমিক।
আর্থিক ক্ষতি: সরকার এই খাত থেকে প্রতি বছর ২,০০০ কোটি টাকার বেশি কর এবং ৫০০ কোটি টাকার বেশি মজুরি বাবদ আয় করে থাকে, যা এখন ঝুঁকির মুখে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফিকি (FICCI) এবং বাংলাদেশ চায়না চেম্বার (BCCCI) এই সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের মতে, “এই অরাজকতা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং ভবিষ্যৎ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।” তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর কার্যকর হলে ‘লাগেজ সোহেল’ বা ‘পিয়াস’ সিন্ডিকেটের মতো চোরাকারবারিদের ২০ হাজার কোটি টাকার ‘রিফারবিশড’ আইফোন এবং ভারতীয় চোরাই ফোনের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তারা সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই ‘মব’ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।






















