আমরা প্রতিদিন স্মার্টফোন ব্যবহার করি বলে অনেক সময় মনে করি, ডিভাইস সম্পর্কে সবকিছুই আমরা জানি। বিশেষ করে আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা ও পরামর্শ বহু বছর ধরে চালু আছে।
বন্ধুদের মুখে শোনা কথা, অনলাইন ফোরাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও সব মিলিয়ে এসব ধারণা অনেকের কাছে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে একসময় যেসব পরামর্শ কার্যকর ছিল, আধুনিক আইফোনের ক্ষেত্রে সেগুলোর অনেকটাই এখন ভুল বা ক্ষতিকর।
প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ার সম্প্রতি এমন পাঁচটি প্রচলিত আইফোন মিথ তুলে ধরেছে, যেগুলো আর বিশ্বাস করা উচিত নয়। সেগুলো এখানে আলোচনা করা হলো—
ভেজা আইফোন চালের মধ্যে রাখলে ঠিক হয়ে যাবে
ফোন পানিতে পড়লে চালের মধ্যে রাখার পরামর্শটি প্রায় সবারই জানা। ধারণা হলো, চাল পানি শোষণ করে ফোনের ভেতরের আর্দ্রতা টেনে নেবে। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। চাল খুব ধীরে আর্দ্রতা শোষণ করে এবং ফোনের ভেতরে আটকে থাকা পানি বের করতে পারে না। বরং এই সময়ের মধ্যে ফোনের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ক্ষয় ধরতে পারে। এছাড়া চার্জিং পোর্ট বা স্পিকারের ভেতর চালের গুঁড়া বা ময়লা ঢুকে আরো সমস্যা তৈরি হতে পারে। অ্যাপল কোম্পানিও চাল ব্যবহারের পরামর্শের বিপক্ষে মত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ফোন উল্টো করে ধরে হালকা টোকা দিয়ে পানি বের করে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রেখে দেয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
ব্যাটারি বাঁচাতে সব অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া
অনেকে মনে করেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা অ্যাপ বন্ধ না করলে চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আইওএসে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকলেও কার্যত কাজ করে না। অপারেটিং সিস্টেম অ্যাপগুলোকে ‘ফ্রিজ’ করে রাখে, অর্থাৎ সেগুলো প্রসেসর বা ব্যাটারি ব্যবহার করে না। বরং অ্যাপ জোর করে বন্ধ করলে আবার চালুর সময় বেশি ব্যাটারি খরচ হয়। অ্যাপ কাজ না করলে তবেই সেটি বন্ধ করার পরামর্শ দেয় অ্যাপল। সেক্ষেত্রে ব্যাটারি সাশ্রয়ের জন্য ‘ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ’ বন্ধ করাই বেশি কার্যকর।
কন্ট্রোল সেন্টার থেকে ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ হয়
কন্ট্রোল সেন্টার থেকে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আইকনে চাপ দিলে অনেকেই মনে করেন এগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বাস্তবে সেগুলো শুধু বর্তমান সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, কিন্তু ফিচারগুলো চালু থাকে। এয়ারড্রপ, অ্যাপল ওয়াচ বা এয়ারপ্লের মতো সুবিধা চালু রাখতেই অ্যাপলের এ ব্যবস্থা। ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে সেটিংস অ্যাপে গিয়ে অপশন বন্ধ করতে হয়।
রাতভর চার্জে রাখলে ব্যাটারির ক্ষতি হয়
আগের দিনের ফোনে এ সমস্যা থাকলেও আধুনিক আইফোনে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও স্মার্ট চার্জিং সিস্টেম ব্যবহার হয়। ব্যাটারি ১০০ শতাংশ হলে চার্জ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ‘অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং’ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর অভ্যাস বুঝে চার্জ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই রাতভর চার্জে রাখলেও ব্যাটারির ক্ষতি হয় না।
নতুন ফোন কিনতে বাধ্য করতে অ্যাপল পুরনো আইফোন ধীর করে দেয়
ব্যাটারির সক্ষমতা কমে গেলে হঠাৎ ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ সমস্যা এড়াতে অ্যাপল পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ভারী কাজের সময় ফোন কিছুটা ধীর মনে হলেও স্থিতিশীল থাকে। প্রয়োজনে ব্যাটারি বদলালেই এ সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভুল ধারণা দূর হলে এবং সঠিক তথ্য জানা থাকলে আইফোন ব্যবহার আরো নিরাপদ ও কার্যকর হবে।






















