দীর্ঘদিন ধরে চলা এনইআইআর (NEIR) বিরোধী আন্দোলনের নামে দোকানপাট বন্ধ রাখায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সারা দেশের সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্কসহ ঢাকার প্রধান মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা দোকান খোলার ঘোষণা দিলেও চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক সিন্ডিকেটটি এখনো দোকান বন্ধ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই বিভক্তির ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ঢাকার বড় বড় শপিং মল এবং জেলা শহরগুলোর সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান বন্ধ থাকায় তারা ব্যাংক লোন, দোকান ভাড়া এবং কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ আশ্বস্ত হয়ে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।

এদিকে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও তমাকুণ্ড লেনের ব্যবসায়ী সমিতি এখনো দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড়। জানা গেছে, এর নেপথ্যে রয়েছে আরিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট।

মূল কারণ: চট্টগ্রামের এই মার্কেটটি মূলত অবৈধভাবে আসা এবং ‘রিফারবিশড’ আইফোনের প্রধান হাব। এনইআইআর পুরোপুরি কার্যকর হলে তাদের কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ মজুদ অকেজো হয়ে যাবে।

ভীতি প্রদর্শন: অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে চাইলেও এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ে তারা সাহস পাচ্ছেন না। যারা দোকান খোলার চেষ্টা করছেন, তাদের ওপর ‘মব’ লেলিয়ে দেওয়া বা ব্যবসায়িক বয়কটের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুষ্টিমেয় কিছু বড় চোরাকারবারির স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সারা দেশের ১ লক্ষ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা সংকটে ফেলা হচ্ছে। যমুনা ফিউচার পার্কের একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “আমরা আর কারো দাবার ঘুঁটি হতে চাই না। আমাদের পরিবার আছে, লোন আছে। চট্টগ্রাম কেন বন্ধ রাখছে সেটি তাদের ব্যক্তিগত এজেন্ডা হতে পারে, কিন্তু সারা দেশের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।”

বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চট্টগ্রামের এই সিন্ডিকেটের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিটিআরসি ভবন এবং বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত শোরুমগুলোতে হামলার নেপথ্যে চট্টগ্রামের এই সিন্ডিকেটের উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিন্ডিকেটটি আজ সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশ মার্কেটে আজ থেকেই দোকান খোলার তোড়জোড় শুরু হবে, যা অবৈধ মোবাইল সিন্ডিকেটের ওপর বড় ধরণের আঘাত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।





















