বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের তীব্র সংকটে ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) সরবরাহে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি। এ সংকটে পিসি সরবরাহ কমে প্রাক-করোনা মহামারী অর্থাৎ ২০১৬ সালের পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। একই সঙ্গে র্যাম ও স্টোরেজের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইডিসির সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মেমোরি চিপের এ সংকট ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে আগামী বছরগুলোয় বিশ্ববাজারে কম্পিউটারের দাম যেমন বাড়বে, তেমনি ডিভাইসের কনফিগারেশন বা সক্ষমতাও আগের চেয়ে কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, বেশি দাম দিয়েও ক্রেতারা আগের মতো উন্নত মানের কম্পিউটার পাবেন না।
এ আশঙ্কার পেছনে একটি বড় প্রেক্ষাপট হলো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে পিসি বিক্রিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নতুন ডিভাইসের চাহিদার কারণে সে বছর ২৮ কোটি ৪৭ লাখ পিসি সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু চিপ সংকটে ২০২৬ সালে এ সরবরাহ ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে ২৬ কোটি ইউনিটে নেমে আসতে পারে। আইডিসির গবেষণা ব্যবস্থাপক জিতেশ উবরানি জানিয়েছেন, আগে ধারণা করা হয়েছিল এ সংকট কেবল ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদও পিসি বাজারের এ অস্থিরতা কাটবে না।
এ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়বে কম্পিউটারের সক্ষমতার ওপর। সাধারণত একটি আধুনিক এআই পিসির জন্য অন্তত ১৬ জিবি র্যামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেমোরির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কম র্যাম দিয়ে কম্পিউটার তৈরি করবে। এতে কম্পিউটারের নিজস্ব গতির বদলে ক্লাউডনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বেশি জোর দেয়া হবে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা আগের মতো পিসির উচ্চগতির সক্ষমতা পাবেন না।
ডেল, এইচপি ও লেনোভোর মতো বড় কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা মেমোরি সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকলেও পিসির দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো পথ নেই। ডেলের চিফ অপারেটিং অফিসার জেফ ক্লার্ক এ সংকটকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গত ৪০ বছরে এমন চিপ সংকট খুব কমই দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপল বা লেনোভোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিশাল বাজেটের কারণে টিকে থাকতে পারলেও আসুস বা এসারের মতো তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। চিপের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের তৈরি কম্পিউটারের দাম এতই বেড়ে যাবে যে ক্রেতারা তা কিনতে আগ্রহী নাও হতে পারেন। সব মিলিয়ে আগামী দুই-তিন বছর কম্পিউটার ও প্রযুক্তিপণ্যের বাজারের জন্য বেশ কঠিন সময় হতে যাচ্ছে।






















