রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে বা নির্জন রাস্তায় আপনার হাত থেকে ছিনতাই হওয়া দামী স্মার্টফোনটি কোথায় যায়? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে উঠে এসেছে এক পিলে চমকানো তথ্য। ছিনতাই হওয়া এসব ফোন এখন আর যন্ত্রাংশ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে না, বরং বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এগুলোর ১৫ ডিজিটের অনন্য পরিচয় বা IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বর বদলে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে চুরি হওয়া ফোনগুলো পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে পুনরায় বাজারে চলে আসছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চক্রের তিনটি স্তর রয়েছে: ছিনতাইকারী বা চোরেরা ফোন চুরি করে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছে দেয়।রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা বা চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের কিছু অসাধু টেকনিশিয়ান চীন থেকে আনা বিশেষ বক্স বা ক্র্যাকড সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোনের মূল আইএমইআই মুছে দিয়ে অন্য কোনো নষ্ট বা সস্তা ফোনের আইএমইআই বসিয়ে দেয়। আইএমইআই বদলে ফেলার পর ফোনটি ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ বা ‘ইউজড’ হিসেবে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়।
অপরাধীদের প্রধান অস্ত্র
আইএমইআই বদলে যাওয়া এই ফোনগুলোর প্রধান ক্রেতা হলো ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলাররা।
কেন কিনছে: ফোনের আইএমইআই বদলে গেলে পুলিশ কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) বা লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারে না।
ঝুঁকি: একটি অপরাধ করে ফোনটি ফেলে দিলে বা সিম বদলে ফেললে পুলিশের পক্ষে ফোনের আসল মালিক বা ব্যবহারকারীকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিটিআরসি-র ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম চালু হওয়ার পর অবৈধ বা ক্লোন করা আইএমইআই শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এনইআইআর বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করায় এই প্রযুক্তিগত সুরক্ষাও হুমকির মুখে পড়েছে। অপরাধীরা চাচ্ছে এই সিস্টেমটি অকেজো থাকুক, যাতে তারা নির্বিঘ্নে আইএমইআই বদলে ফোন বিক্রি করতে পারে।
ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ইদানীং এমন অনেক ফোন পাচ্ছি যেগুলোর আইএমইআই সার্চ দিলে দেখা যায় সেটি একটি বাটন ফোনের নম্বর, কিন্তু হাতে থাকা ফোনটি একটি দামী স্মার্টফোন। এটিই প্রমাণ করে যে ভেতরের হার্ডওয়্যার ঠিক রেখে আইডেন্টিটি বদলে ফেলা হয়েছে। যারা এ ধরনের ফোন কিনছেন, তারা অজান্তেই বড় কোনো অপরাধের দায়ভার নিজেদের ওপর নিয়ে নিচ্ছেন।”
ক্রেতাদের জন্য সতর্কতা
ফোন কেনার আগে অবশ্যই *#06# ডায়াল করে আসা আইএমইআই-এর সাথে বক্সের নম্বর মিলিয়ে নিন। ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার সময় বিক্রেতার এনআইডি কপি এবং ক্রয়ের রসিদ অবশ্যই সংগ্রহ করুন। বিটিআরসি-র মাধ্যমে আইএমইআই-এর বৈধতা যাচাই করুন।





















