কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ‘মার্কেট মনিটর ট্র্যাকার’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে চীনের স্মার্টফোন বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বছরের শেষ প্রান্তিকে স্মার্টফোনের চালান বার্ষিক ১.৬% হ্রাস পেয়েছে এবং পুরো বছরের হিসেবে এই পতনের হার ০.৬%। বছরের শুরুতে সরকারি ভর্তুকির কারণে বাজার কিছুটা চাঙা হলেও বাকি সময়জুড়ে সংকোচন লক্ষ্য করা গেছে।
আইফোন ১৭-এর হাত ধরে শীর্ষে অ্যাপল
চতুর্থ প্রান্তিকে ২২% বাজার শেয়ার নিয়ে চীন দখল করে রেখেছে অ্যাপল। মূলত আইফোন ১৭ সিরিজের প্রতি গ্রাহকদের প্রবল আকর্ষণ এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
-
প্রো সিরিজ: নতুন ক্যামেরা ডিজাইন এবং উন্নত ফিচারের কারণে প্রো মডেলগুলো বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
-
আইফোন এয়ার: অতি-পাতলা ডিজাইনের ‘আইফোন এয়ার’ দেরিতে বাজারে আসায় শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে চললেও, এটি ই-সিম প্রযুক্তির দেশীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ইভান ল্যাম।
অপোর বড় লাফ ও হুয়াওয়ের নেতৃত্ব
চতুর্থ প্রান্তিকে বার্ষিক ১৫% প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাজারের দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেছে OPPO। রেনো সিরিজের ব্যাপক চাহিদা এবং নতুন লঞ্চ হওয়া ফাইন্ড এক্স৯ (Find X9) ও ওয়ানপ্লাস ১৫ (OnePlus 15) সিরিজ এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রি কিছুটা কমলেও পুরো বছরের হিসেবে চীনা বাজারে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে হুয়াওয়ে (Huawei)। বিশেষ করে মাঝারি ও উচ্চ-স্তরের মডেলে মূল্য ছাড় দেওয়ায় তারা অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে মেট ৮০ সিরিজের লঞ্চে বিলম্ব হওয়ায় চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের পারফরম্যান্সে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

শাওমি ও অনার-এর উদ্ভাবন
চতুর্থ প্রান্তিকে ভিভো, শাওমি এবং অনার (HONOR) কিছু উদ্ভাবনী ফিচারের মাধ্যমে নজর কেড়েছে:
-
শাওমি ১৭ সিরিজ: শাওমি ১৭ প্রো-এর পেছনের অংশে থাকা ‘রিয়ার ডিসপ্লে’ গ্রাহকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। এছাড়া শাওমি ১৭ আল্ট্রা নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই বাজারে এনে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার চেষ্টা করেছে তারা।
-
অনার (HONOR): অনার-এর এক্স৭০ এবং ৪০০ সিরিজ বাজারে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। এছাড়া নতুন প্রকাশিত ‘WIN’ সিরিজটি এর উন্নত কুলিং সিস্টেম বা তাপীয় কর্মক্ষমতার জন্য আলোচনায় এসেছে।
২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জ: মেমোরির দাম বৃদ্ধি
২০২৬ সালে স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি।
-
মেমোরি খরচ: ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মেমোরির দাম ৪০%-৫০% এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ২০% বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-
প্রভাব: ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফা ঠিক রাখতে নিম্ন-স্তরের (Entry-level) মডেলগুলোর উৎপাদন কমিয়ে প্রিমিয়াম বা মিড-রেঞ্জ মডেলের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।
তবে সরকারি নতুন দফার ভর্তুকি শিল্পের এই খরচের চাপ কিছুটা লাঘব করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশ্লেষকরা।






















