২০২৫ সালে ভারতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ আইফোন বিক্রি করেছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে দেশটির সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারের রেকর্ড ৯ শতাংশ হিস্যা দখল করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ প্রযুক্তি জায়ান্ট। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার। বিক্রির দিক থেকে ভিভো, স্যামসাং ও শাওমি এগিয়ে থাকলেও আয়ের দিক থেকে এবং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে অ্যাপল এখন ভারতের অন্যতম শীর্ষ নাম।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, গত বছর ভারতের বাজারে অ্যাপলের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। এটিকে দেশটিতে আইফোনের এখন পর্যন্ত সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে দেখছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
ভারতের সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজার স্থবির হয়ে পড়লেও অ্যাপলের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ভারতে মোট স্মার্টফোন সরবরাহ ১৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ১৫ কোটি ৩০ লাখ ইউনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অর্থাৎ বাজারের আকার না বাড়লেও অ্যাপল নিজের অবস্থান বড় করতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় অ্যাপলের শীর্ষ কর্তারা ভারতের বাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। গত অক্টোবরে এক সভায় কোম্পানির সিইও টিম কুক জানান, ভারতে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে অ্যাপল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপল এখন ভারতকে উৎপাদনের পাশাপাশি বিক্রির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে দেখছে। নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করতে দেশটিতে সরাসরি বিনিয়োগ ও উপস্থিতি বাড়াচ্ছে অ্যাপল। গত মাসেই উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় অ্যাপলের পঞ্চম রিটেইল স্টোর উদ্বোধন করা হয়। ২০২৩ সালে ভারতে অ্যাপলের নিজস্ব স্টোর খোলার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, এটি তারই একটি বড় ধাপ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের স্মার্টফোন বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত চার বছর দেশটিতে বার্ষিক ফোন বিক্রির পরিমাণ ১৫ কোটি ২০ লাখ ইউনিটের আশপাশেই আটকে আছে। তবে এর মধ্যেও ‘প্রিমিয়াম’ বা দামি ফোনের বাজারে উল্টো দৃশ্য দেখা গেছে। ব্যবহারকারীরা এখন দীর্ঘস্থায়ী ও উন্নত ফিচারের ফোন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন, যা আইফোনের মতো ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।






















