দেশে মোবাইল কেন্দ্রিক অপরাধ বা ‘মোবাইল ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি’ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে সব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সংকট উত্তরণে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) বা মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন ব্যবস্থা কে ‘গেম চেঞ্জার’ মনে করছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে অহরহ মোবাইল ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ এর শিকার (ভিক্টিম) হচ্ছে। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা সবগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে পারি না।”
তিনি জানান, বর্তমানে অবৈধ ও অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট ব্যবহারের ফলে অপরাধীদের সঠিক অবস্থান ও পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
মোবাশ্বের হোসেন উল্লেখ করেন যে, সিটিটিসিতে সাইবার অপরাধ দমনে একটি আধুনিক ল্যাব রয়েছে। তবে এই ল্যাবের সক্ষমতাকে শতভাগ কাজে লাগাতে হলে এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি এনইআইআর চালু হলে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করতে পারবো।”
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এনইআইআর চালু হলে প্রতিটি হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সাথে যুক্ত থাকবে। ফলে:ছিনতাই বা চুরি করা ফোন দিয়ে অপরাধ করলে দ্রুত হ্যান্ডসেটটি ব্লক করা যাবে। অবৈধ বা গ্রে-মার্কেটের ফোন নেটওয়ার্কে সচল থাকবে না, যা অপরাধীদের সুযোগ কমিয়ে দেবে। সাইবার অপরাধের তদন্তে ব্যবহৃত ডিভাইসের তথ্য দ্রুত ল্যাবে বিশ্লেষণ করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও অনিবন্ধিত ফোন প্রবেশ করছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।






















