যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়ার তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এইচ-২০০’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ কেনার জন্য শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় এআই স্টার্টআপ ডিপসিক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীন সরকার এ শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানকে এনভিডিয়ার চিপ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। তবে কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। চীনের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ অনুমোদন দিলেও বর্তমানে শর্তগুলো চূড়ান্ত করার কাজ করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি)।
সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডিপসিকের পাশাপাশি চীনের আরো তিনটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্টকেও এই চিপ কেনার সবুজসংকেত দেয়া হয়েছে। এ চার কোম্পানি সব মিলিয়ে প্রায় চার লাখ এইচ-২০০ চিপ কেনার অনুমতি পেয়েছে।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং সম্প্রতি জানান, তারা এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। তবে তিনি মনে করেন, চীন সরকার হয়তো লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে।
এনভিডিয়ার এইচ-২০০ চিপটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই হার্ডওয়্যার যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চলছে। এ মাসের শুরুর দিকে মার্কিন সরকার এনভিডিয়াকে চীনের কাছে এই চিপ বিক্রির অনুমতি দেয়। তবে চীন সরকার নিজের দেশে এই চিপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় এতদিন আমদানি প্রক্রিয়া ঝুলে ছিল। এখন বেইজিংয়ের এ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে চীনের এআই খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ডিপসিক কোম্পানিটি গত বছর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে যখন তারা মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইয়ের তুলনায় অনেক কম খরচে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করে। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল ‘ভি-ফোর’ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। এ নতুন মডেলটি চালানোর জন্য বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন, যা এনভিডিয়ার এই চিপগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে এ লেনদেন নিয়ে ওয়াশিংটনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, এনভিডিয়া এর আগে ডিপসিককে এমন কিছু এআই মডেল তৈরিতে সহায়তা করেছে, যা পরবর্তীতে চীনের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করেছে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এ কারণে ডিপসিকের এই চিপ কেনার বিষয়টি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কড়া নজরদারিতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






















