বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে বড় ধরণের মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে ভারত। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ভারত তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক মানের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই ব্র্যান্ডটি কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং বিশ্ববাজারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হবে। তবে ভারতের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ছায়া বাংলাদেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) এক অধিবেশনে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “ভারত এখন নিজস্ব স্মার্টফোন ব্র্যান্ড চালুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ভারতীয় ব্র্যান্ড আত্মপ্রকাশ করবে।” এই উদ্যোগের ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ফোনের বাজারে ভারত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
ভারতের এই উৎপাদন বিপ্লবের আড়ালে বাংলাদেশের বাজারে অবৈধ মোবাইল ফোনের সয়লাব দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভারতের মোবাইল খাতের বিকাশে গৃহীত সহায়ক নীতিগুলোর অপব্যবহার করে বড় একটি অসাধু চক্র বাংলাদেশে চোরাচালান চালাচ্ছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও সিলেট সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার অবৈধ ফোন দেশে ঢুকছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের এই অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নীতির ফলে বাংলাদেশে দেশীয় মোবাইল কারখানাগুলো তীব্র চাপে পড়ছে। আমদানিনির্ভরতা বজায় রাখতে ও বাজার দখল করতে একটি শক্তিশালী মহল চোরাচালানকে উৎসাহিত করছে, যা মেইড ইন বাংলাদেশ মোবাইল শিল্পের বিকাশে বড় বাধা।
কোভিড পরবর্তী সময়ে চীন থেকে কারখানা সরানোর সময় বাংলাদেশ একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল। বর্তমানে দেশে ২০টির বেশি মোবাইল কারখানা গড়ে উঠেছে, যার কয়েকটি বিদেশে রপ্তানিরও স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ফোন আসার কারণে এই কারখানাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে।
এই সংকট মোকাবিলায় বিটিআরসি গত ১ জানুয়ারি থেকে কঠোরভাবে এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু করেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, অবৈধ ফোনের দাপট না কমলে দেশীয় শিল্প ও বিনিয়োগ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। অশ্বিনী বৈষ্ণবের ঘোষণার পর ভারতের আগ্রাসী বাজার নীতির মোকাবিলায় বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের আরও সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





















