র্যাম কেনা একসময় খুব একটা কঠিন বিষয় ছিল না। কিন্তু এখন কেবল কতটুকু মেমোরি প্রয়োজন তা নিয়েই নয়, বরং নিজের পকেটের সামর্থ্য নিয়েও গভীরভাবে ভাবতে হচ্ছে। খবর টেক রাডার।
বর্তমানে যারা নতুন পিসি বিল্ড করার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য সময়টা বেশ প্রতিকূল। বিশেষ করে ডিডিআর-৫ র্যামের বর্তমান বাজারদর ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উন্নত প্রযুক্তির এ র্যাম কিনতে গিয়ে পকেটে বেশ মোটা অংকের অর্থ নিয়েই নামতে হচ্ছে।
পিসি যন্ত্রাংশের দাম তদারকির জনপ্রিয় ওয়েবসাইট পিসিপার্টপিকারের তথ্য অনুযায়ী, ৬৪ জিবি ডিডিআর-৫ কিটের দাম বর্তমানে ১ হাজার ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি) মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ এসব র্যামের দাম এখন অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ারের চেয়েও বেশি।
কিছুদিন আগেও একই সক্ষমতার র্যামকে বিলাসিতা নয় বরং পিসির পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য একটি প্রয়োজনীয় ও সাশ্রয়ী আপগ্রেড হিসেবেই দেখা হতো। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টেও ৬৪ জিবি ডিডিআর-৫ র্যামের দাম ছিল ২৫০ ডলারের (প্রায় ৩০ হাজার টাকা) নিচে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ব্যবহারকারী ও গেমারদের বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, এক মাস আগেও এ র্যামের গড় দাম ৬০০-৭০০ ডলারের আশপাশে ছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দামের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। দাম ৮০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে ১০০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে ডিডিআর-৫ র্যাম।
পিসিপার্টপিকারে মূল্য ট্র্যাকিং গ্রাফগুলোয় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে র্যামের দাম মোটামুটি স্থির থাকলেও এখন সে স্থিতিশীলতা ভেঙে যাচ্ছে। বাজারে যত র্যামের চাহিদা, উৎপাদন ততটা বাড়ছে না। পাশাপাশি পুরনো প্রযুক্তির র্যাম ধীরে ধীরে বাজার থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের র্যামগুলো মুনাফা দেয়া ক্রেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহে সামান্য ঘাটতি হলেই সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ব্যবহৃত বা ভোক্তা পর্যায়ের র্যামের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
র্যামের দাম এখন এতটাই আকাশচুম্বী যে প্রদর্শনীর জন্য রাখা পিসি, গুদাম, এমনকি অফিস থেকেও মেমোরি স্টিক চুরির ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসছে।






















