ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা স্মার্টফোনের বাজারে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ।
গত কয়েক বছর পকেটে সহজে বহনযোগ্য ‘ফ্লিপ ফোন’গুলোর জয়প্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও ২০২৬ সাল থেকে বড় পর্দার ‘বুক স্টাইল’ ফোল্ডেবল ফোনগুলোই বাজারের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কাজের সুবিধার্থে তৈরি বড় পর্দার এসব ফোন চলতি বছর বিশ্বজুড়ে মোট ফোল্ডেবল ফোন বিক্রির ৬৫ শতাংশ হিস্যা দখল করবে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৫২ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবহারকারীরা এখন ভাঁজ করা ফোনকে কেবল স্টাইল বা শৌখিন বস্তু হিসেবে দেখছেন না। মাল্টিটাস্কিং, অফিসের কাজ এবং বড় পর্দায় কনটেন্ট দেখার সুবিধার্থে এখন বুক স্টাইল ফোনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন ক্রেতারা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মাঝামাঝিতে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসতে পারে। ফোনটি বুক স্টাইল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এ বিভাগের জনপ্রিয়তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনের হার্ডওয়্যার উন্নতি, ব্যবহার সহজ করা এবং প্রিমিয়াম স্মার্টফোনে নির্মাতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ার কারণে ফ্লিপ বা ক্ল্যামশেল ফোনের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে। অর্থাৎ মানুষ এখন বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করছে আর পুরনো ধরনের ফোল্ডেবল ফোনের বাজার ছোট হয়ে আসছে। অন্যদিকে বড় পর্দার ফোল্ডেবল ডিভাইসগুলো এখন উৎপাদনশীলতা বা কাজের সহায়ক ডিভাইস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যমতে, অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেম এরই মধ্যে এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ এখন গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৭-এর তুলনায় বেশি বিক্রি হচ্ছে।
কাউন্টারপয়েন্ট মনে করছে, অ্যাপল বুক স্টাইল ফোল্ডেবল আইফোনের বাজারে এলে এ ধরনের ফোনের বিক্রি এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে। ফোল্ডেবল ফোনের বাজার প্রসারে ফ্লিপ ফোনের প্রাথমিক ভূমিকা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কৌশলে এখন বড় পর্দার বুক টাইপ ফোনগুলোই মূল কেন্দ্রে চলে আসছে। পাশাপাশি অ্যাপল বিশেষজ্ঞ মার্ক গুরম্যান জানান, প্রথম ফোল্ডেবল ফোনের পর একটি ছোট ক্ল্যামশেল ডিজাইনের আইফোন আসতে পারে বাজারে।
পাশাপাশি ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারের আকার প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হবে বাজারটিতে অ্যাপলের প্রবেশ।
গত বছর অনেক স্মার্টফোন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান নতুন ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক ছিল। তবে প্রতিবেদনটি বলছে, এ বছর নির্মাতারা অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নামবে।
এছাড়া স্যামসাংয়ের বহু প্রতীক্ষিত ট্রাইফোল্ড ফোন ২০২৬ সালে বাজারে আসতে পারে। ট্রাইফোল্ড বা তিন স্ক্রিনের ফোল্ডেবলকেও বুক স্টাইলের একটি ধরন হিসেবে ধরা হয়। এগুলোও একটি বুক বা বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায়। শুধু পার্থক্য হলো, সাধারণ বুক স্টাইল ফোন একবার ভাঁজ হয় আর ট্রাইফোল্ড ফোন দুটি ভাঁজ রেখা বা তিনটি অংশ থাকে।






















