বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মী ছাঁটাইয়ের হিড়িক এ ভয়কে আরো ঘনীভূত করেছে। গুগল, অ্যামাজন ও টিসিএসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। জনবল কমানোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে এআই-চালিত ভবিষ্যতের দিকে রূপান্তরের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের মতে, এসব চাকরি হারানোর পেছনে কেবল এআই দায়ী নয়। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
অল্টম্যান বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত কারণ গোপন করে এআইকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।’ যদিও এ সিইও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি।
স্যাম অল্টম্যান জানান, অনেক কর্মসংস্থান প্রকৃতপক্ষে সরাসরি এআইয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পেশায় এ প্রযুক্তির কারণে প্রকৃত অর্থেই কিছু কর্মী স্থানচ্যুতির ঘটনা ঘটছে।
একাধিক বিশেষজ্ঞও স্যাম অল্টম্যানের এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাসের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৫৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে সরাসরি এআইয়ের প্রভাব ছিল। সংখ্যাটি শুনতে বিশাল মনে হলেও ওই বছর হওয়া মোট কর্মী ছাঁটাইয়ের তুলনায় এটি ১ শতাংশেরও কম।
মার্কিন অলাভজনক সংস্থা ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের এক প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেয়া ৯০ শতাংশ নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিন বছরে কর্মসংস্থানের ওপর এআইয়ের কোনো প্রভাব পড়েনি। কিন্তু বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ বেশকিছু কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে এআইকে দায়ী করছে।
এআই নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে কিনা, এমন প্রসঙ্গে অল্টম্যান জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেললেও নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও প্রচুর।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মতো এবারো আমরা নতুন ধরনের পেশা খুঁজে পাব। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন পেশায় এআইয়ের বাস্তব প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে শুরু করবে।’
প্রযুক্তি খাতের বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন এআইয়ের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করছে। হোম ডেকোর স্টার্টআপ লিভস্পেস উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে সম্প্রতি এক হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। এছাড়া আইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বেকার ম্যাকেঞ্জিও একই কারণ দেখিয়ে বৈশ্বিক জনশক্তির ১০ শতাংশ ছাঁটাই করেছে বলে জানা গেছে।





















