যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার সঙ্গে সঙ্গে ইরানে ব্যাপক সাইবার হামলা শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা, ওয়েবসাইট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA), আইএসএনএ (ISNA) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়া বা অ্যাক্সেসযোগ্যতা হারানোর খবর পাওয়া গেছে। ইরানের দৈনিক হামশাহরি’র টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলা হয়েছে, সামরিক হামলার সঙ্গে “ব্যাপক সাইবার অভিযান” শুরু হয়েছে, যাতে দেশের অনেকগুলো প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যাহত হয়েছে।
ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকস (NetBlocks) সংস্থা জানিয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট কানেকটিভিটি স্বাভাবিকের মাত্র ৪% এ নেমে এসেছে। মোবাইল ফোন সেবাও ব্যাপকভাবে কমে গেছে বা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ঘটনার খবর সংগ্রহ ও প্রচার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাইবার হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো আসেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সামরিক অভিযানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চালানো হয়েছে যাতে ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি কার্যক্রম এবং তথ্য প্রচার ব্যাহত হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনো সাইবার হামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার আক্রমণও “কঠোর প্রতিক্রিয়ার” অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ঘটনার পুরো চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।






















