অ্যাপল ওয়াচ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেল অ্যাপল। পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন ডিজাইনের স্মার্টওয়াচ নিষিদ্ধের যে আবেদন জানানো হয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন সংস্থা।
এর ফলে রক্তে অক্সিজেন মাত্রা মাপার প্রযুক্তিটির পরিবর্তিত সংস্করণসহ অ্যাপলওয়াচ বিক্রিতে আর কোনো বাধা রইল না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এ অভিযোগটি অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশন’ বা আইটিসি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে, অ্যাপল ওয়াচের ওপর পুনরায় আমদানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে না তারা।
সংস্থাটি মার্চের প্রাথমিক এক রায়কে সমর্থন করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল, অ্যাপলের নতুন ডিজাইনের স্মার্টওয়াচগুলো ‘মাসিমো’ নামের মেডিকেল টেক কোম্পানির কোনো পেটেন্ট লঙ্ঘন করেনি।
মাসিমোর সঙ্গে অ্যাপলের এই আইনি লড়াই দীর্ঘদিনের। এ জয়ের পর আইটিসি’কে ধন্যবাদ জানিয়েছে অ্যাপল।
এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, “মাসিমো অ্যাপলের বিরুদ্ধে অবিরাম আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও তাদের প্রায় সব দাবিই বাতিল হয়েছে।”
এ বিষয়ে এনগ্যাজেটের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মাসিমো।
মাসিমো ও অ্যাপলের মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি বিবাদের এ পেটেন্ট যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। ওই সময় মাসিমো প্রথমবারের মতো অ্যাপল ওয়াচ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেছিল।
ওই সময় আইটিসি বলেছিল, অ্যাপল মাসিমোর পেটেন্ট লঙ্ঘন করেছে। যার ফলে অ্যাপল ওয়াচ আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আসে এবং অ্যাপল বাধ্য হয়ে কিছু মডেলের রক্তে অক্সিজেন মাপার প্রযুক্তিটি নতুন করে ডিজাইন করে।
তবে অ্যাপলের এ সমাধানে মাসিমো সন্তুষ্ট ছিল না। তারা অ্যাপল ওয়াচের সেই পরিমার্জিত বা আপডেট করা বিভিন্ন মডেলের ওপর আবারও আমদানি নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে।
এখন আইটিসি সেই দাবির বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিলে মাসিমোর সামনে এখন কেবল একটি পথই খোলা আছে। তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘ইউএস কোর্ট অফ অ্যাপিলস ফর দ্য ফেডারেল সার্কিট’-এ আপিল করতে পারে।
বর্তমানে এ আইনি লড়াইয়ে মাসিমো পিছিয়ে থাকলেও অ্যাপলকে বেশ কয়েকটি দিক থেকেই টক্কর দিয়েছে তারা।
গেল নভেম্বরে এক ফেডারেল জুরি মাসিমোর পক্ষ নিয়ে রায় দিয়েছিল যে, পেটেন্ট লঙ্ঘনের অন্য আলাদা এক মামলায় অ্যাপলকে ৬৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে।



















