ইদের ছুটিতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যান। তবে আনন্দের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বড় ভোগান্তির একটি হলো মোবাইল ইন্টারনেটের ধীরগতি। ভিডিও দেখা, ভিডিও কল, ফেসবুক স্ক্রল কিংবা জরুরি মেসেজ পাঠাতে গেলেই দেখা যায় ইন্টারনেট চলছে খুব ধীরে। মূলত একই এলাকায় অতিরিক্ত ব্যবহারকারী, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ এবং ফোনের কিছু সেটিংসের কারণে এই সমস্যা হয়। তবে কয়েকটি সহজ সেটিংস পরিবর্তন করলেই অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়ানো সম্ভব।
১. প্রথমেই ফোনের পার্ফেক্ট নেটওয়ার্ক টাইপ ঠিক আছে কি না তা দেখে নিতে হবে। অনেক সময় ফোন অটোমেটিকভাবে ৩জি বা দুর্বল নেটওয়ার্কে চলে যায়। এজন্য সেটিংস থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপশনে গিয়ে পার্ফেক্ট নেটওয়ার্ক হিসেবে ৪জি/এলটিই বা ৫জি নির্বাচন করা ভালো। এতে ফোন দ্রুততর নেটওয়ার্ক ধরতে পারবে।
২. দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এরোপ্লেন মোড রিফ্রেশ করা। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ একই টাওয়ারে কানেক্টেড থাকলে নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ১০-১৫ সেকেন্ডের জন্য এরোপ্লেন মোড চালু করে আবার বন্ধ করলে ফোন নতুন করে কাছের টাওয়ারে সংযুক্ত হয় এবং ইন্টারনেট কিছুটা দ্রুত কাজ করতে পারে।
৩. এছাড়া ফোনে জমে থাকা ক্যাশে ফাইল অনেক সময় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ক্রোমের মতো অ্যাপ বেশি ব্যবহার করলে এই সমস্যা বাড়ে। তাই নিয়মিত অ্যাপের ক্যাশে ক্লিয়ার করা উচিত।
৪. অনেকেই খেয়াল করেন না যে ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ডে একসঙ্গে অনেক অ্যাপ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে থাকে। এতে মূল কাজের সময় স্পিড কমে যায়। এজন্য সেটিংস থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা রেস্ট্রিকশন চালু করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ডাটা ব্যবহার কমানো সম্ভব।
৫. যদি গ্রামের এলাকায় নেটওয়ার্ক খুব দুর্বল হয়, তাহলে ঘরের ভেতরের বদলে জানালার পাশে বা খোলা জায়গায় গিয়ে ফোন ব্যবহার করলে ভালো সিগন্যাল পাওয়া যেতে পারে। কারণ দেয়াল বা টিনের ঘর অনেক সময় নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত করে।
৬. ফোনের সফটওয়্যার আপডেট থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো সফটওয়্যারে অনেক সময় নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বাগ থাকে। তাই নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করলে ইন্টারনেট পারফরম্যান্সও উন্নত হতে পারে।
৭. প্রয়োজন হলে ফোন একবার রিস্টার্ট করাও কার্যকর হতে পারে। এতে নেটওয়ার্ক কানেকশন নতুন করে রিফ্রেশ হয় এবং অনেক ছোটখাটো সমস্যা ঠিক হয়ে যায়।
ঈদের আনন্দ উপভোগের সময় ধীরগতির ইন্টারনেট যেন বিরক্তির কারণ না হয়, সেজন্য এই ছোট ছোট সেটিংস পরিবর্তন ও সচেতনতা অনেকটাই কাজে দিতে পারে।



















