রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ৭০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার করে দেশব্যাপী ফোরজি (4G) নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিইকে (ZTE) আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ‘প্রকিউরমেন্ট অব ফোরজি অন ৭০০ মেগাহার্টজ’ শীর্ষক ক্রয় কার্যক্রমের পরবর্তী বাস্তবায়ন ধাপ শুরু হলো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেডটিই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুনইয়ংয়ের হাতে নোয়া তুলে দেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ৭০০ মেগাহার্টজের লো-ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও ঘরের ভেতরে মোবাইল সিগন্যাল পাওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে দুর্গম, প্রত্যন্ত ও নেটওয়ার্ক সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মোবাইল সংযোগ এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
টেলিযোগাযোগ খাতে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে দীর্ঘ দূরত্বে সিগন্যাল পৌঁছানো এবং তুলনামূলক ভালো ইনডোর কাভারেজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে এই ব্যান্ডে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে তুলনামূলক কম অবকাঠামো ব্যবহার করে বিস্তৃত এলাকায় সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে সেবার মান কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে নেটওয়ার্ক স্থাপন, সাইটের সংখ্যা, ব্যাকহল সক্ষমতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর।
টেলিটক জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ডিজিটাল সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি দেশের ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে জেডটিই বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার জিয়াং শিয়াও, অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর মোহাম্মদ জাহেদ আলী, প্রজেক্ট ডিরেক্টর ঝু শিউবিন এবং টেলিটকের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ও প্রভাব মূল্যায়নে মোট চুক্তিমূল্য, নেটওয়ার্ক স্থাপনের সময়সীমা, কতটি সাইটে যন্ত্রপাতি বসানো হবে এবং কোন কোন এলাকায় প্রথমে সেবা চালু হবে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রকল্পের পরিধি ও গ্রাহক পর্যায়ে সম্ভাব্য সুফল আরও স্পষ্ট হবে।





















