কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর করতে একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট (ডিঅ্যান্ডবি)। অ্যানথ্রোপিক, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, পারপ্লেক্সিটি ও স্নোফ্লেকের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ডিঅ্যান্ডবির যাচাইকৃত ব্যবসায়িক তথ্য ও বিশ্লেষণসেবা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট সাউথ এশিয়া, মিডল ইস্ট অ্যান্ড আফ্রিকা (ডিঅ্যান্ডবি এসএএমই) অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সেবা ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এআই-চালিত অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবস্থায় নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক তথ্য যুক্ত করে অংশীদার যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে পারবে।
এই উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ এআই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে ডিঅ্যান্ডবির ‘কমার্শিয়াল গ্রাফ’। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, মালিকানার কাঠামো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। নিরাপদ মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল (এমসিপি) সংযোগ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান কার্যপ্রক্রিয়ায় এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।
এর ফলে ব্যবসায়িক অংশীদারদের যাচাই-বাছাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নির্দিষ্ট কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এআইয়ের তৈরি বিশ্লেষণের পেছনে যাচাইকৃত বাণিজ্যিক তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট সাউথ এশিয়া, মিডল ইস্ট অ্যান্ড আফ্রিকার প্রোডাক্টস বিভাগের গ্রুপ ডিরেক্টর নওমান লাখানি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক তথ্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আমরা এমন এআই-ভিত্তিক কার্যপ্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছি, যা যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
ডিঅ্যান্ডবির তথ্য অনুযায়ী, তাদের কমার্শিয়াল গ্রাফে বিশ্বজুড়ে ৬৫ কোটিরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। তথ্যের মান বজায় রাখতে প্রতি মাসে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি তথ্য যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশের ব্যবসায় কী প্রভাব পড়তে পারে
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ উদ্যোগ ব্যবসায়িক তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যাচাইকৃত ব্যবসায়িক তথ্য যুক্ত করা গেলে সম্ভাব্য ক্রেতা, সরবরাহকারী ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদার সম্পর্কে তুলনামূলক বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি মালিকানার কাঠামো, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির সংকেত বিশ্লেষণেও সহায়তা মিলতে পারে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক গ্রাহকের মূল্যায়নে, রপ্তানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ক্রেতা ও সরবরাহকারী যাচাইয়ে এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলো জটিল সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের তথ্য ব্যবহার করতে পারে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক তথ্য সম্ভাব্য গ্রাহক ও অংশীদার মূল্যায়ন, নিজেদের ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরা এবং নতুন বাজারের সুযোগ শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এসব সুবিধা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কতটা সহজলভ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট এআই প্ল্যাটফর্মে সেবার প্রাপ্যতা, প্রযুক্তিগত সমন্বয়, মূল্য এবং ব্যবহারের শর্তের ওপর নির্ভর করবে। এআইয়ের বিশ্লেষণ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হলেও চূড়ান্ত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের আগে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা ও যথার্থতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।






















