আমেরিকান টেক জায়ান্ট মেটা তাঁদের স্মার্টগ্লাস (স্মার্ট চশমা) ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেট নিয়ে যে বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ গত মাসেই জানিয়েছেন যে, মেটার এআই সক্ষমতার স্মার্টগ্লাসের জন্য ২০২৫ সালটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এবারে জানা গেল, বছরে ১ কোটি রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে মেটা।
২০২৪ সালে মেটা ১ মিলিয়নের চেয়েও বেশি রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। এবছর (২০২৫ সালে) সংখ্যাটা ৫ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে বলেও গত মাসেই জানিয়েছেন জাকারবার্গ। কিন্তু স্মার্টগ্লাস নিয়ে মেটা যে আরও উচ্চাভিলাষী সেটা জানা গেল রে-ব্যান স্মার্টগ্লাসের চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা এসিলরলাক্সোটিকা-এর কল্যাণে।
বিশ্বখ্যাত এই গ্লাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ লাখেরও বেশি রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রি হয়েছে। তবে ২০২৬ সাল থেকে এসিলরলাক্সোটিকা মেটার জন্য বছরে ১০ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১ কোটি স্মার্টগ্লাস তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এখন এসিলরলাক্সোটিকা যদি বছরে ১ কোটি মেটা স্মার্টগ্লাস তৈরি করে তাহলে সরলভাবে এর অর্থ হচ্ছে জাকারবার্গের মেটা বছরে ১ কোটি স্মার্টগ্লাস বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
এসিলরলাক্সোটিকা-এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) ফ্রান্সেসকো মিলেরি বলেছেন, ‘(একসময়) একজোড়া চশমা হবে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।’ প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। আপলোডভিআর নামের ভার্চুয়াল-রিয়েলিটি প্ল্যাটফর্মে মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানিয়েছেন, অক্টোবর ২০২৩ এর পর থেকে মেটার রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রি হয়েছে ২ মিলিয়ন ইউনিট।
মিলেরি আরও বলেন যে, মেটার সাথে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের। তবে শুধু রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস নিয়েই নয়, এসিলরলাক্সোটিকা তাঁদের ওকলে ব্র্যান্ডের গ্লাস নিয়েও মেটার সাথে কাজ করতে চায়। গত মাসে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, মেটাও ওকলে ব্র্যান্ডের স্মার্টগ্লাস নিয়ে আগ্রহী।
রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে মিলেরি আরও বলেন, ‘এই ধরণের (স্মার্টগ্লাস প্রযুক্তির) বিবর্তনের আলোকে, এবং আমাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা এখন মেটার রে-ব্যান স্মার্টগ্লাসের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চলেছি, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ বছরে ১ কোটি ইউনিটে পৌঁছাবে।’
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে মেটা ও এসিলরলাক্সোটিকা দীর্ঘমেয়াদী এক অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়, যেটা ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে চলেছেন।
মিলেরি আরও জানান যে, মেটার সকল গ্লাস বা চশমাতেই থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাপোর্ট এবং সাবসক্রিপশন-ভিত্তিক বিভিন্ন সেবাও আসতে চলেছে মেটার স্মার্টগ্লাসে। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান এসিলরলাক্সোটিকা চায় মেটার মাল্টিমডাল এআই ফিচারগুলো বিশ্বব্যাপী আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।
উল্লেখ্য, এআর ও ভিআর প্রযুক্তি পণ্য তৈরির জন্য মেটার রয়েছে আলাদা ডিভিশন বা বিভাগ রয়েছে। রিয়েলিটি ল্যাবস নামের এই বিভাগটিতে মেটার এযাবৎকালের মোট বিনিয়োগ চলতি বছরই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মেটা এ বছরই ডিসপ্লে-সমৃদ্ধ নতুন একটি স্মার্টগ্লাস নিয়ে আসতে পারে। নতুন এই গ্লাসটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে একটি নিউরাল রিস্টব্যান্ড দিয়ে। তাই অনুমান করা যায়, নতুন স্মার্টগ্লাসের সাথে মেটা নতুন একটি প্রযুক্তি পণ্য নিয়ে আসছে।