যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির প্রযুক্তিগত গোপন তথ্য চুরি এবং ইরান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ব্যাংক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতেই হচ্ছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়েকে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) নিউ ইয়র্কের একজন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক মামলাটি বাতিলের জন্য হুয়াওয়ের করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক অ্যান ডনেলি এই রায় দেন। এর ফলে, চীনের এই টেলিকম জায়ান্টের বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের বিচারকাজ এগিয়ে নিতে আর কোনো বাধা রইল না।
হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ দুটি। প্রথমত, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয়টি প্রযুক্তি কোম্পানির বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরি করার চেষ্টা করেছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরানে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ‘স্কাইকম’ নামক একটি হংকং-ভিত্তিক কোম্পানিকে গোপনে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে ১০ কোটি ডলারের বেশি লেনদেন করেছে।
তার ৫২ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক ডনেলি উল্লেখ করেন, সরকারি আইনজীবীরা এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, “স্কাইকম আসলে পরোক্ষভাবে হলেও হুয়াওয়েরই ইরানের শাখা কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়।” তিনি আরও বলেন, নিজেদের ব্র্যান্ডের পরিসর বাড়াতে হুয়াওয়ে যে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে, তার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
তবে হুয়াওয়ে শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৩টি বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেছিল, “যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ কোনো একটি অপরাধ খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যেই আমাদের বিরুদ্ধে টার্গেট করে মামলা করেছে।”
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও হুয়াওয়ে বা তার আইনজীবীরা কোনো সাড়া দেননি।
এই মামলার বিচারকাজ ২০২৬ সালের ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এটি কয়েক মাস ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই ফৌজদারি মামলাটি ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে শুরু হয়েছিল। একই সময়ে চীনের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ ‘চায়না ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি অভিযান শুরু করে, যা পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে ২০২২ সালে জো বাইডেন প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগে মার্কিন সরকার ২০১৯ সাল থেকেই আমেরিকান প্রযুক্তিতে হুয়াওয়ের প্রবেশাধিকার সীমিত করে রেখেছে, যদিও হুয়াওয়ে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।






















