বিশ্বব্যাপী ৪৫ কোটির বেশি মানুষ বর্তমানে স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করছে। চলতি বছর শেষ নাগাদ এ সংখ্যা ৫৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জার্মানিভিত্তিক অনলাইন প্লাটফর্ম স্ট্যাটিস্টা।
আগে ঘড়ির কাজ ছিল শুধু সময় জানানো। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সে ধারণা এখন বদলে গেছে। আধুনিক স্মার্টওয়াচ এখন আর শুধু সময় দেখায় না। স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সহজ যোগাযোগ ও নানা স্মার্ট ফিচারের কারণে এটি হয়ে উঠেছে অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
স্ট্যাটিস্টার তথ্যানুযায়ী, গত বছর বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বাজারের মূল্য ছাড়িয়েছে ৫ হাজার কোটি ডলার। শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে অ্যাপল, যার দখলে রয়েছে ২১ শতাংশ হিস্যা।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস প্রেমীদের জন্য এখন একটি অপরিহার্য ডিভাইসে পরিণত হয়েছে স্মার্টওয়াচ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯২ শতাংশই ডিভাইসটি পরিধান করে নিজের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাক করতে। ৮৮ শতাংশ স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারী বলেছে যে তাদের ডিভাইসগুলো ফিটনেসবিষয়ক লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণা বলছে, প্রায় প্রতি দুজন স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন নিয়মিতভাবে ব্যায়াম করার অভ্যাস তৈরি করেছে, যেখানে তাদের পরিধেয় ডিভাইসটি এক ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
তবে এত সব সুবিধা ও জনপ্রিয়তার মধ্যেও সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বিক্রিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছর থেকে শুরু করে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধি দেখেনি বাজারটি।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর স্মার্টওয়াচ বিক্রি হয়েছে ৭ শতাংশ কম। মূলত টেক জায়ান্ট অ্যাপল ও ভারতের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে মন্দা দেখা দিয়েছে। তবে এ সময় চীনের ব্র্যান্ডগুলো, বিশেষ করে হুয়াওয়ে ও শাওমি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে।
অ্যাপল ২০২৩ সালের শেষে ও গত বছরের শুরুতে রক্তের অক্সিজেন স্তর মনিটরিং-সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত পেটেন্টের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি ও আমদানি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়। এছাড়া গত বছর বাজারে আসা অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০-এ সামান্য পরিমার্জনের কারণে এ পতন আরো বেগবান হয়। ফলে ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অ্যাপলের বিক্রি কমে যায়, যার প্রভাব ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়ায়।
২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তথ্যানুযায়ী, অ্যাপল ওয়াচের বিক্রি বার্ষিক হিসাবে ১৯ শতাংশ কমেছে। আইফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানির জন্য এটি টানা দ্বিতীয় বছর ও টানা পঞ্চম প্রান্তিক পতন। তবে প্রবৃদ্ধির দেখা না মিললেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাজার হিস্যার দিক থেকে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান আছে যথাক্রমে হুয়াওয়ে ও স্যামসাং।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টওয়াচ বাজারের এ পতন ও ধীরগতিকে সাময়িক মনে করা হলেও, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি এক ধরনের সতর্ক সংকেত। বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন তাদের আরো নতুন প্রযুক্তি, কার্যকর ফিচার ও উদ্ভাবনী ডিজাইনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক লিও গেবির মতে, স্মার্টওয়াচ এখন আর আগের মতো নতুন বা আকর্ষণীয় কোনো প্রযুক্তিপণ্য নয়। এছাড়া প্রতি বছর স্মার্টওয়াচে বড় কোনো নতুন ফিচার আসছে না, আগের ফিচারগুলোরই ছোটখাটো পরিমার্জন হচ্ছে। ফলে নতুন করে ডিভাইস কেনার প্রতি ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।






















