টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ বেশ কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ফেনী ও নোয়াখালীর একাধিক উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভেঙে পড়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আপদকালীন সময়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে মোবাইল অপারেটরদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নেটওয়ার্ক টাওয়ারের (বিটিএস) জেনারেটর চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের যোগান দিতে সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, “বন্যা পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে আমরা ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সেবা সচল রাখার জন্য ডিজেল জেনারেটর মবিলাইজেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার এসওএফ ফান্ড থেকে দুর্যোগকালীন ফুয়েল খরচের একাংশ বহন করবে বলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের আশ্বাস দিয়েছে।”
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও স্পষ্ট করেন যে, এই তহবিল মূলত সরকারের অর্থ নয়। তিনি বলেন, “উল্লেখ্য যে, SOF টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীদের জমানো টাকা… এটা দিয়ে দূর্গত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সচল রাখার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।”
মাঠকর্মীদের নিরলস সংগ্রাম
বন্যাদুর্গত এলাকায় নেটওয়ার্ক সচল রাখার এই কঠিন কাজটি বাস্তবায়ন করছেন মাঠপর্যায়ের টেলিকম কর্মীরা। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তাদের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজের প্রতি নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, ফেনী সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলার শতাধিক গ্রামের মতো বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। অনেক রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে টেলিকম কর্মীরা নিজেরাই বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করছেন। কাঁধে করে ভারী জেনারেটর এবং ডিজেলের কন্টেইনার নিয়ে পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিচ্ছেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন টাওয়ারগুলো সচল করার জন্য। কখনো কখনো প্লাবিত পথ পাড়ি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রাক্টর। তাদের এই অদম্য প্রচেষ্টার ফলেই দুর্যোগের এই সময়ে সাধারণ মানুষ একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন।






















