অ্যাপলের বহুল আলোচিত ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনার কাজ এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। পণ্যের আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের আগেই ডিভাইসটির ডিসপ্লে মান নিয়ে আলোচনা চলছে প্রযুক্তি জগতে।
অ্যাপল পণ্যের বিশ্বস্ত বিশ্লেষক মিং-চি কুয়ো জানান, যেখানে স্যামসাংয়ের নিজস্ব গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এ এখনো ভাঁজের রেখা স্পষ্ট, সেখানে ফোল্ডেবল আইফোনে থাকছে না কোনো ভাঁজের দাগ। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিজমুক্ত এ উদ্ভাবনের মূল প্রযুক্তি হলো একটি ধাতব পাত, যা স্ক্রিনের নিচে বসানো থাকবে। এটি ভাঁজের সময় ডিসপ্লের ওপর পড়া চাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দেবে। বিশেষ ধাতব উপাদানটি তৈরি করছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ফাইন এম-টেক। প্রতিষ্ঠানটি স্যামসাংয়ের ফোল্ডেবল ফোনের সঙ্গেও কাজ করেছে।
তবে ফাইন এম-টেক স্যামসাংয়ের ফোল্ড-৭ মডেলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেটিতে এখনো স্পষ্ট ক্রিজ থাকবে বলে জানা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপলের জন্য স্যামসাং ডিসপ্লে একেবারে ভিন্ন ও বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি করছে।
অ্যাপল বিশেষজ্ঞ মার্ক গুরম্যানের মতে, প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু ভাঁজ লুকানো নয়, বরং তা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা। পাশাপাশি নতুন ফোল্ডেবল আইফোনে উচ্চমানের হিঞ্জ বা ফোল্ডিং মেকানিজম থাকবে। ফলে স্ক্রিন একেবারে মসৃণ হবে।
মিং-চি কুয়ো আরো জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এ ফোল্ডেবল আইফোনের উৎপাদন শুরু হবে। ২০২৬ সালের শেষ কিংবা ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসতে পারে। এতে ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে এবং ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে থাকবে। থাকবে দুটি রিয়ার ক্যামেরা, একটি ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং ফেস আইডির বদলে পাওয়ার বাটনে থাকা টাচ আইডি।
ফোনটি খোলা অবস্থায় পুরুত্ব ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ফোল্ড অবস্থায় ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার। এছাড়া এবারের সিরিজে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে ডিভাইসটির নকশায়। টিপস্টার সনি ডিকসন সম্প্রতি এক্সে দেয়া পোস্টে জানিয়েছেন, অ্যাপলের ফোনটি পাঁচটি নতুন রঙে আসবে। এগুলো হলো নীল, সিলভার, কালো, সবুজ ও বেগুনি। আগের আইফোন ১৬-এর উজ্জ্বল রঙের তুলনায় এবারের ফোনগুলো অপেক্ষাকৃত ঔজ্জ্বল্যহীন ও প্যাস্টেল ধরনের হবে।






















