গত কয়েক বছরে খারাপ সময় পার করছে এক সময়ের শীর্ষ চিপ নির্মাতা ইন্টেল। একের পর এক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে বলেই মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির মধ্যে এখন আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাহী (সিইও) লিপ-বু টান। খবর টমস হার্ডওয়্যার।
ইন্টেলের সিইও বলেন, ‘২০-৩০ বছর আগেও আমরা ছিলাম সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সবচেয়ে বড় নেতা। এখন পৃথিবী বদলে গেছে। আমরা আর শীর্ষ ১০ চিপ নির্মাতার মধ্যে নেই।’
তিনি আরো জানান, বড় এআই মডেল তৈরি ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি অনেক দেরি করে ফেলেছে। বাজারে এরই মধ্যে ওপেনএআই, এনভিডিয়া, গুগল ও অ্যান্থ্রপিকের মতো কোম্পানি অনেক এগিয়ে গেছে। তাই এখন নতুন করে প্রবেশ করলেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা খুব কঠিন হবে।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ের উচ্চ পর্যায়ের নিয়োগগুলো ইন্টেলকে আবারো এআই খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওরেগনটেকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময়ের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান ইন্টেল এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছে।
ইন্টেলের নড়বড় অবস্থার কাথা স্বীকার করে সিইও লিপ-বু টান অবশ্য দাবি করেছেন, দীর্ঘ ঐতিহ্যের কারণে ইন্টেল এখনো একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যদিও চিপের বাজারে বর্তমানে এমডি, এনভিডিয়া, অ্যাপল, টিএসএমসি ও স্যামসাং অনেক বেশি সফল; তবু ব্রডকম, মিডিয়াটেক, মাইক্রন কিংবা এসকে হাইনিক্সের মতো তুলনামূলক ছোট চিপ নির্মাতাদের চেয়ে ইন্টেলের প্রভাব এখনো বেশি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টেলের এক্স৮৬ প্রসেসর বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। সর্বশেষ অ্যারো লেক সিরিজের চিপও এএমডির শক্তিশালী লাইনআপের বিপরীতে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিটের (জিপিইউ) ক্ষেত্রেও ইন্টেলের অবস্থান ভালো নয়।
এসব ব্যর্থতার মধ্যে নতুন সিইও লিপ-বু টানের এমন মন্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির সংকট আরো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একসময় সিপিইউ বাজারে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য ছিল ইন্টেলের হাতে। সে সময় ইন্টেলের প্রতিদ্বন্দ্বী তেমন কেউ ছিল না। তাই কোম্পানির নতুন প্রজন্মের প্রসেসরে বড় ধরনের পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হতো না। ২০ বছর আগে ও ইন্টেল এতটাই শক্তিশালী ছিল যে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারে এনভিডিয়া কিনে নেয়ার কথা ভেবেছিল। এখন সেই এনভিডিয়ার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ কোটি ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এএমডিকে কখনোই প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেনি ইন্টেল। কিন্তু রাইজেন প্রসেসর বাজারে এনে বিপ্লব ঘটিয়ে ইন্টেলের দাপট কমিয়ে দেয় কোম্পানিটি। এখন এক্সবক্স সিরিজ ও প্লেস্টেশন ৫-এর মতো বড় গেম কনসোলও চলছে এএমডির চিপে। এছাড়া এএমডি এখন কাজ করছে ইন্টেলের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী টিএসএমসির সঙ্গে।






















