অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা অ্যাপ ও গেম ডাউনলোড করেন গুগল প্লে স্টোর থেকে। তবে অনেকেই জানেন না, প্লাটফর্মটিতে আরো অনেক উপকারী ফিচার আছে, যেগুলো ফোনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, মেমোরি খালি করতে, খরচ বাঁচাতে ও পরিবারের সঙ্গে কনটেন্ট শেয়ার করতে সহায়তা করে। গুগল প্লে স্টোরের এমন আটটি কাজ সম্পর্কে নিচে জেনে নেয়া যাক—
ডিভাইসের নিরাপত্তায় প্লে প্রটেক্ট
প্লে স্টোরে অ্যাপ ডাউনলোড সাধারণত নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীরা যদি এর বাইরে থেকে (যেমন পুরনো সংস্করণ বা যেটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া যায় না) কোনো অ্যাপ ইনস্টল করেন, তাহলেও ‘প্লে প্রটেক্ট’ ফিচারটি ফোনকে নিরাপদ রাখে। এটি ফোনে ডিফল্টভাবে চালু থাকে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে নিয়মিত স্ক্যান করে। যদি কোনো বিপজ্জনক অ্যাপ পাওয়া যায়, তবে ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। প্রয়োজনে নিজেও ম্যানুয়ালি স্ক্যান করা যায়। এর জন্য প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করে ‘প্লে প্রটেকশন’ অপশনে গিয়ে স্ক্যান বাটন চাপলেই হবে।
এছাড়া ‘পারমিশন ফর আনইউজড অ্যাপ’ অপশনটি ছয় মাসের মধ্যে অব্যবহৃত অ্যাপগুলো দেখায়। এখান থেকেই সহজে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলা যায়।
একাধিক ডিভাইসে অ্যাপ সিঙ্ক
একাধিক অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস (যেমন ফোন, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ বা টিভি) ব্যবহারকারীরা একাধিকবার একই অ্যাপ ইনস্টল না করেও কাজ চালাতে পারেন। ম্যানেজ অ্যাপস অ্যান্ড ডিভাইস থেকে সিঙ্ক অ্যাপস টু ডিভাইস অপশন চালু করলে বাকি ডিভাইসেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপস ইনস্টল হবে।
একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ আনইনস্টল করা
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে স্টোরেজ খালি করতে হলে আলাদা করে একেকটি অ্যাপ মুছে না ফেলে, প্লে স্টোরের ম্যানেজ অ্যাপ ডিভাইসে গিয়ে ম্যানেজ ট্যাবে আকার বা সর্বশেষ ব্যবহারের ভিত্তিতে অ্যাপগুলো বাছাই করে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ আনইনস্টল করা যায়।
স্টোরেজ বাঁচাতে অটো আর্কাইভিং
ম্যানুয়ালি অ্যাপও সরাতে না চাইলে অটো অ্যাপ আর্কাইভিং অপশনটি চালু করে নেয়া যায়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের কিছু অংশ সরিয়ে রাখে। অ্যাপের ডাটা হারায় না এবং আইকন হোম স্ক্রিনে রয়ে যায়, তবে হালকা গ্রে হয়ে যায়। প্রয়োজনে ক্লিক করলেই আবার ইনস্টল হয়ে যায়।
দূর থেকে অ্যাপ ইনস্টল
ফোন হাতে না থাকলেও যেকোনো ব্রাউজারে প্লে স্টোর খুলে সেখান থেকে ফোন বা ট্যাবলেটে অ্যাপ ইনস্টল করা যায়। এজন্য শুধু একই গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন থাকা জরুরি।
অ্যাপ বা গেম অপছন্দ হলে রিফান্ডের ব্যবস্থা
কোনো অ্যাপ বা গেম কিনে সেটি প্রত্যাশা পূরণ না করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিফান্ড চাওয়া যায়। সিনেমা, বই বা অডিওবুকের ক্ষেত্রে সময়সীমা সাত দিন। তবে শর্ত হচ্ছে, তা ডাউনলোড বা স্ট্রিমে যেন না করে থাকেন। রিফান্ডের অপশন অ্যাপের পেজেই দেখা যায়।
পরিবারের সঙ্গে অ্যাপ ও কনটেন্ট শেয়ার
গুগল প্লে ফ্যামিলি লাইব্রেরিতে একবার কেনা অ্যাপ, গেম বা সিনেমা পাঁচজন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। তবে সব কনটেন্ট শেয়ারযোগ্য নয়, শুধু যেগুলোর পেজে ফ্যামিলি লাইব্রেরি চিহ্ন থাকে, সেগুলোই শেয়ার করা যায়।
প্লে পয়েন্ট অর্জন ও ব্যবহার
প্লে স্টোরে প্রতি ডলারের কেনাকাটার জন্য আপনি গুগল প্লে পয়েন্টস অর্জন করতে পারেন। এ পয়েন্ট দিয়ে ইন-অ্যাপ ডিসকাউন্ট, গুগল প্লে ক্রেডিট, এমনকি দান করাও সম্ভব।
এসব ফিচার প্রতিদিন কাজে না লাগলেও প্রয়োজনে তা সময়, জায়গা এবং অর্থ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।






















