বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের বাজার পাঁচ বছরে মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে এবং এ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ভারত। দেশটির এক সরকারি বিবৃতিতে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, চলতি দশকের শেষে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজারের মূল্য দাঁড়াবে ১০ হাজার কোটি ডলারে।
২০২৩ সালে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজারের মূল্য ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৫ হাজার কোটি ডলারে এবং ২০৩০ সালে তা ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও ব্যবসার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছে ভারত।
সরকারি বিবৃতে বলা হয়েছে, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডিজাইন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি বেশ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। নীতিমালা প্রণয়ন থেকে এখন বাস্তব উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। খাতটি ভবিষ্যতে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে। দেশজুড়ে গড়ে উঠছে একাধিক ফ্যাব্রিকেশন, অ্যাসেম্বলিং ও ডিজাইন হাব। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে মাইক্রোন টেকনোলজি গুজরাটে একটি এটিএমপি (অ্যাসেম্বলিং, টেস্টিং, মার্কিং ও প্যাকিং) কারখানা স্থাপনে ২২ হাজার ৫১৬ কোটি রুপির বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে টাটা ইলেকট্রনিকস ও তাইওয়ানের পাওয়ারচিপ সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং করপোরেশন যৌথভাবে গুজরাটে ৯১ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এ প্রকল্পে এমন একটি কারখানা তৈরি হবে, যেখানে প্রতি মাসে ৫০ হাজার চিপ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সিলিকন ওয়েফার উৎপাদন করা যাবে। এটি ভারতের জন্য বড় উৎপাদন সক্ষমতার একটি ধাপ হিসেবে দেখছে অনেকে।
সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ আসছে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে। ভারত সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সক্ষমতা রাখে। এগুলো হলো সরঞ্জাম, উপকরণ ও সেবা। সেমিকন্ডাক্টরের জন্য দরকারি যন্ত্রাংশ তৈরিতে দেশজুড়ে থাকা ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ, খনিজ ও গ্যাস রয়েছে। তাই অঞ্চলটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করতে বেশ উপযুক্ত।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতে গবেষণা ও উন্নয়ন, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটির) মতো আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক প্রতিভাবান কর্মী রয়েছেন।
সরকার আরো জানিয়েছে, দেশের ইলেকট্রনিকস শিল্প দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং এ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি।
স্মার্টফোন থেকে কম্পিউটার, গাড়ি, ওয়াশিং মেশিনসহ সব ধরনের যন্ত্রই চিপনির্ভর। কয়েক বছর ধরে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর খাত নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে চিপ উৎপাদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি বিনিয়োগ বাড়িয়ে যাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ মহামারীর সময় চিপ সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়। সেই সঙ্গে এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়। কারণ বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত উন্নত চিপের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ায় উৎপাদন হয়।





















