যত দ্রুত সম্ভব প্রযুক্তি খাতের সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাগিদ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে আগামী সপ্তাহেই ফের প্রশাসক নিয়োগ হতে যাচ্ছে সংগঠনটিতে।
২৪ আগস্ট, রবিবার নির্বাচন ঝুলে যাওয়া একটি রিটপিটিশন খারিজ করে দ্রুত নির্বাচনের আদেশ দিযেছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ-২ এর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের আদালত। আদলতে বাদী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন প্রবীর নিয়োগী ও হামিদুল মিসবাহ।
অপরদিকে আদলতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে বেসিস সদস্যদের পক্ষ থেকে রিট আবেদন বাতিলে আবেদকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট দুর্বার
আর রাষ্ট্র পক্ষে আইনজীবি ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
আদালত সূত্রে প্রকাশ, ১৪ মে বেসিসের সাধারণ সদস্য তৌফিকুল করিম সুহৃদের করা এক রিট আবেদনের শুনানিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বেসিসে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে স্টে অর্ডার দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই স্টে অর্ডার বাতিল চেয়ে আরেকটি আবেদন করেন বেসিস এর দুই জন সাধারণ সদস্য এএইচএম রোকমোনুর জামান রনি এবং বেলাল আহমেদ। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত। এজালাসে তিন জন বিচারপতি ছিলেন।
বিচারকেরা প্রথমেই কেন এতোদিনেও নির্বাচন করা হয়নি তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। রিট বাতিলের বিপক্ষে কারো আপত্তি আছে কি না তা জানতে চাইলে আইনজীবিরা নিরব ছিলেন। তারপর বেঞ্চপ্রধান আইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আদেশ দেন।
রিট আবেদন বাতিলে আবেদনকারীদের মধ্যে বেসিস সদস্য এ এইচ এম রোকমুনুর জামান রনি ডিজিবাংলাটেক-কে বলেন, বেসিস এর স্থবিরতা কাটাতে এবং সাধারণ সদস্যদের হয়রানিমুক্ত আমরা সরকারের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হয়ে রিটের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলাম। এভাবে চললে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সহ আইটি সেক্টর ধ্বংস হবে সেটা আমাদের আইনজীবিরা আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। আর রিটে আগের নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনের যে আবেদন করা হয়েছিলো সে বিষয়ে আদালত সরাসরি কোনো কিছু না বলে দেশের প্রচলিত নিয়মেই নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
এই আদেশের ফলে আগামী ৯০- ১২০ দিনের মধ্যে অবিলম্বে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বেসিস এর দায়িত্ব হাস্তান্তর করতে হবে।
রিট খারিজ বিষয়ে তৌফিকুল করিম সুহৃদ বলেন, বেসিস নিয়ে রিট আমি করেছিলাম। সেখানে নির্বাচন হতে বাধা দেওয়া হয়নি কখনও। আমি আইনগত ভাবে কোর্টের কাছে জানতে চেয়েছিলাম নির্বাচিত কমিটির বিলুপ্তি সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে করতে পারে কি না বাণিজ্য সংগঠন আইনে! তাই আদালতের এই রায়ে আমার কোনো পরাজয় নেই। আমিও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই বেসিস পরিচালিত হবে সেটাই চাই। তবে এক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই রিট করেছিলাম। আমার আপত্তি ছিলো যারা আগের কমিটিকে বাতিল করেছিলো তারা কেউ বেসিস এর সদস্য ছিলো না-সেখানে।






















