ফেসবুক তার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের জন্য কনটেন্ট শেয়ারিং আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে ‘অ্যাডভান্সড স্টোরিজ’ (Advanced Stories) নামে একটি যুগান্তকারী ফিচার নিয়ে আসছে। এই নতুন ফিচারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পুরনো ছবি বা ভিডিও থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন এবং দৃষ্টিনন্দন স্টোরি তৈরি করে দেবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের স্টোরি শেয়ারিংয়ে উৎসাহিত করতে চায়, যা বর্তমানে নিউজ ফিডের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কীভাবে কাজ করবে এই ফিচার?
‘অ্যাডভান্সড স্টোরিজ’ ফিচারটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে পূর্বে আপলোড করা ছবি ও ভিডিওগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করবে। এর ছবি শনাক্তকারী (Photo Recognition) এআই ছবির মান, স্থান, ছবিতে থাকা ব্যক্তি বা পোষা প্রাণী এবং অন্যান্য বিষয়বস্তু শনাক্ত করে সেগুলোকে বিভিন্ন থিম অনুযায়ী সাজাবে।
এরপর, সেই থিমের সঙ্গে মানানসই টেমপ্লেট ব্যবহার করে একটি সম্পূর্ণ নতুন স্টোরি তৈরি করে ব্যবহারকারীকে দেখাবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার পুরনো বিয়ের ছবিগুলো নিয়ে একটি ‘ওয়েডিং’ থিমের স্টোরি, অথবা আপনার সন্তানের ছবিগুলো নিয়ে একটি ‘চাইল্ডহুড মেমোরিজ’ স্টোরি নিজে থেকেই তৈরি হয়ে যাবে।
উদ্দেশ্য এবং সুবিধা
এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়াকে সহজ করা।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য: অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে বা পুরনো স্মৃতি ভুলে যাওয়ায় অনেক ভালো মুহূর্ত শেয়ার করা হয় না। এই ফিচারটি সেই সব মুহূর্তকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে এনে শেয়ার করতে উৎসাহিত করবে।
ব্যবসায়িক পেজগুলোর জন্য: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য বা কোনো ইভেন্টের ছবিগুলো দিয়ে খুব সহজেই আকর্ষণীয় স্টোরি তৈরি করে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারবে।
বদলে যাওয়া সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে তাল মেলানো
মেটার অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা এখন নিউজ ফিডে স্থায়ী পোস্ট করার চেয়ে স্টোরিজ এবং ব্যক্তিগত মেসেজের মতো অস্থায়ী কনটেন্ট শেয়ার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফেসবুকের ‘মেমোরিজ’ ফিচারের সফলতা প্রমাণ করে যে, এআই-এর মাধ্যমে পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ব্যবহারকারীরা পছন্দ করেন। ‘অ্যাডভান্সড স্টোরিজ’ সেই ধারণাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
যদিও কিছু ব্যবহারকারীর কাছে এই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা স্টোরি কিছুটা কৃত্রিম বা ব্যক্তিগত ছোঁয়াবিহীন মনে হতে পারে, ফেসবুক এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ব্যবহারকারীদের সক্রিয়তা বাড়াতে আগ্রহী। এই ফিচারটি ফেসবুকের মূল অংশ হয়ে উঠবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে, তবে এটি প্রমাণ করে যে মেটা ব্যবহারকারীদের পরিবর্তিত অভ্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সর্বদা প্রস্তুত।






















