আজকের স্মার্টফোনগুলো অতীতের ল্যাপটপের চেয়েও শক্তিশালী। অত্যাধুনিক ক্যামেরা, দ্রুত প্রসেসর এবং অসংখ্য অ্যাপের মাধ্যমে এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে প্রযুক্তি যতই এগিয়েছে, কিছু সহজ, কিন্তু খুবই ব্যবহারযোগ্য ফিচার হারিয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী এখনো সেগুলোকে মনে করেন। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্লাটফর্ম মেকইউজঅব (এমইউও) সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে হারানো ফিচারগুলোর উপর আলোকপাত করেছে—
» ফিজিক্যাল কিবোর্ড
সবচেয়ে মনে পড়ার মতো ফিচারের মধ্যে একটি হলো ফিজিক্যাল কিবোর্ড। একসময় ব্ল্যাকবেরি ফোনগুলো ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে মেসেজ টাইপ করার সুবিধা দিত, স্ক্রিনে চোখ রাখার প্রয়োজন ছিল না। বর্তমান টাচস্ক্রিনগুলো যতই স্মার্ট হোক না কেন, অনেক সময় টাইপ করার সময় ভুল হয়ে যায়, অটোকারেক্ট সমস্যা তৈরি হয় এবং টাইপ করার অনুভূতি আগের মতো আর আসে না।
» প্রতিস্থাপনযোগ্য ব্যাটারি
আরেকটি ফিচার যা অনেকেই মিস করেন তা হলো প্রতিস্থাপনযোগ্য বা রিমুভেবল ব্যাটারি। আগে ফোনের ব্যাটারি শেষ হলে সহজেই স্পেয়ার ব্যাটারি বা আলাদা ব্যাটারি ব্যবহার করা যেত। এটি ডিভাইসগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করত। এখন ব্যাটারি সিলড, যা ব্যাটারি বদলানোকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়েছে। যদিও কোম্পানিগুলো ফোনের পাতলা ডিজাইন ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্সকে যুক্তি হিসেবে দেখায়, ফেয়ারফোন প্রমাণ করেছে যে আধুনিক ডিজাইনে ব্যাটারি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।
» এসডি কার্ড
এক্সপ্যানডেবল স্টোরেজ বা মাইক্রোএসডি কার্ডের সুবিধাও এখন প্রায় নেই বললেই চলে। আগে ফোনের স্টোরেজ বাড়ানো সহজ ও সাশ্রয়ী ছিল। এখন ব্যবহারকারীদের বেশি স্টোরেজ ভার্সন কিনতে হয় বা মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল।
» হেডফোন জ্যাক
হেডফোন জ্যাকের অভাবও ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করছে। ৩.৫ মিমি জ্যাক ব্যবহার করে যেকোনো হেডফোন সহজে সংযুক্ত করা যেত, চার্জিং বা ব্যাটারি নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। এখন অনেকেই ওয়্যারলেস ইয়ারবাড ব্যবহার করছেন, কিন্তু এতে ব্যাটারি খরচ, কম্প্রেশনজনিত সাউন্ড মান কমে যাওয়া এবং ক্ষয়প্রাপ্ত ইয়ারবাডের কারণে সমস্যা তৈরি হয়। সনি ও আসুসের কিছু ফোনে হেডফোন জ্যাক আছে, তবে ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এটি প্রায় বিলুপ্ত।
» ইনফ্রারেড (আইআর) ব্লাস্টার
ইনফ্রারেড (আইআর) ব্লাস্টারও একসময় জনপ্রিয় ছিল। এটি ব্যবহার করে ফোনকে ইউনিভার্সাল রিমোট হিসেবে ব্যবহার করা যেত। টিভি, এয়ারকন্ডিশনার এবং অন্যান্য ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। বর্তমানে কেবল কয়েকটি কোম্পানি, যেমন শাওমি ও ওয়ানপ্লাস কিছু মডেলে এটি রেখেছে।
» অনন্য ডিজাইন
স্মার্টফোনের অনন্য ডিজাইনও হারিয়ে গেছে। ফোল্ডেবল ফোন থাকলেও আগে ফোনগুলো একেবারে ভিন্ন ও অভিনব ডিজাইনে আসত। যেমন নকিয়া এন-গেম, এলজি জি ফ্লেক্স বা স্যামসাং গ্যালাক্সি বিম। এসব ফোন ব্যবহারকারীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং নতুন ডিভাইসের প্রতি আগ্রহ বাড়াত।
» এফএম রেডিও
সবশেষে এফএম রেডিও ফিচারের অভাবও ব্যবহারকারীদের অসন্তুষ্ট করছে। আগে হেডফোনের মাধ্যমে সহজেই স্থানীয় রেডিও স্টেশন শোনা যেত, ইন্টারনেট বা ডাটা খরচ ছাড়া। বর্তমানে নির্মাতা এবং ক্যারিয়াররা স্ট্রিমিং সেবার দিকে মনোযোগ দেয়ায় এ সুবিধা হারিয়েছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, যদিও স্মার্টফোনগুলো এখন আরো শক্তিশালী ও স্মার্ট, তবে এগুলোর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারযোগ্য ফিচারও হারিয়ে গেছে। ব্যবহারকারীরা মনে করেন, সব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কার্যকর বা সুবিধাজনক নয়; কখনো কখনো পুরনো ফিচারই বেশি প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে থাকে।






















