ক্লাউড সিকিউরিটিতে ব্যয় বাড়াচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো। মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড ক্লাউডের ব্যবহার বৃদ্ধি, এআই-ভিত্তিক সাইবার হুমকি ও নতুন সরকারি নির্দেশনা। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইডিসির তথ্যানুযায়ী, ক্লাউডে রাখা তথ্যকে চুরি বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ক্লাউড সিকিউরিটি ব্যবস্থা। ক্লাউড নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানো এ অঞ্চলের প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরো সুরক্ষিত করতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি ও বেসরকারি খাতে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে ক্লাউড পরিষেবায় দ্রুত ব্যয় বাড়ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। সঙ্গে সঙ্গে তথ্য ও কাজের সুরক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ক্লাউডে সংরক্ষিত ডাটা হ্যাকিং, অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য হারানো বা সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারে। এজন্য ক্লাউড সিকিউরিটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু তথ্য চুরির ঝুঁকি কমায় না, বরং ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য হুমকি থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আইডিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে এ অঞ্চলে পাবলিক ক্লাউড সেবা বাজারের আকার ছিল ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ২০২৯ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারে।
আইডিসির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিযোগাযোগ ও ব্যাংক খাতে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসারের কারণে ক্লাউড সেবা গ্রহণ সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসা, ব্যক্তিগত সেবা ও সরকারি খাতও ই-কমার্সের প্রসার ও ই-গভর্ন্যান্স উদ্যোগের কারণে দ্রুত এগোচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই পণ্যের মতো খাতগুলো তুলনামূলক ধীরগতিতে ক্লাউড গ্রহণ করতে পারে।
আইডিসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ইয়ি খাই ওয়ং বলেন, ‘ক্লাউড সিকিউরিটির বাজার জটিল ও বিভক্ত। প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও এআই-ভিত্তিক টুলের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে। কিন্তু একই সময় পুরো সিস্টেম ও তথ্যকে একসঙ্গে সুরক্ষিত রাখার (একক নিরাপত্তা অবকাঠামো) দায়িত্বও বজায় রাখতে হচ্ছে।’
তিনি জানান, ক্লাউড নিরাপত্তা সরবরাহকারীদের জন্য কিছু প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে জিরো ট্রাস্ট, সিএনএপিপি, স্বয়ংক্রিয় হুমকি শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা মেনে চলা।
এসব ফিচার প্রতিষ্ঠানকে সাইবার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে, প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করতে সাহায্য করে।
হেল্প নেট সিকিউরিটির প্রতিবেদনে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী ৬৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ক্লাউড নিরাপত্তাকে শীর্ষ পাঁচ নিরাপত্তাবিষয়ক অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ একে শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেছে। চলতি বছরের নতুন প্রবণতা হিসেবে এআই নিরাপত্তা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।






















