অনেকের কাছে আইফোন থেকে অ্যান্ড্রয়েডে পরিবর্তন করা সহজ মনে হতে পারে, কারণ জনপ্রিয় বেশির ভাগ অ্যাপই প্লে স্টোরে আছে। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী পরিবর্তনের পর পরই বুঝতে পারেন শুধু অ্যাপ থাকা মানে কাজ একই রকম নয়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের হার্ডওয়্যার অনেক মজবুত হলেও অনেক ক্ষেত্রেই আইফোনে অ্যাপগুলো ভালো সুবিধা দেয়, কাজ ভালোভাবে করে। অ্যান্ড্রয়েডের চেয়ে আইফোনে ভালো কাজ করে এমন পাঁচটি অ্যাপ হলো—
ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রামের ইন-অ্যাপ ক্যামেরা অ্যান্ড্রয়েডে অনেক সমস্যা করে। আইফোনে সহজে ছবি তুলতে পারলেও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৪ আলট্রায় শাটার ধীরে কাজ করে এবং ছবির গুণগত মানও নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় ভালো আলোয় ছবি নিতে ৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয় এবং ছবির রঙ-টোন স্টক ক্যামেরা থেকে আলাদা হয়ে যায়। স্টক ক্যামেরা ব্যবহার করে পরে ছবি আপলোড করলেও তা সময়সাপেক্ষ এবং দ্রুত শেয়ার করা যায় না।
স্পটিফাই
স্পটিফাই অ্যান্ড্রয়েডে ডিভাইসভেদে ভিন্নভাবে কাজ করে। আইফোনে অ্যাপের ভেতরেই ইকুয়ালাইজার আছে। কিন্তু স্যামসাং ডিভাইসে এটি সিস্টেম সেটিংসে কাজ করে, ফলে সব অডিওতে প্রভাব পড়ে। অন্য ব্র্যান্ডগুলোয়ও অভিজ্ঞতা একরকম নয়। অনেক ব্যবহারকারী লকস্ক্রিন কন্ট্রোল অকার্যকর হওয়া বা অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
হোয়াটসঅ্যাপ
অ্যান্ড্রয়েডে আইমেসেজ নেই, তাই হোয়াটসঅ্যাপই মূল মেসেজিং অ্যাপ। কিন্তু এর অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনেক পিছিয়ে। ডার্ক মোডে আসল কালো রঙের বদলে সবুজাভ ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা যায়, যা ওএলইডি ডিসপ্লেতে খারাপ লাগে। আইফোনে মেনুগুলো পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে এলোমেলো। আইফোনে মেসেজে সোয়াইপ করে সহজেই দেখা যায় কে পড়েছে, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে এর জন্য একাধিক ধাপ পেরোতে হয়।
গেমিং
বড় গেম ডেভেলপাররা প্রায়ই আইওএসকে অগ্রাধিকার দেন। কারণ গেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো গেমে পার্থক্য স্পষ্ট। এ গেমের মতো হাই-এন্ড গেম আইফোনে উচ্চ রেজল্যুশন, মসৃণ ফ্রেমরেট ও ১২০ এফপিএস সমর্থন করে, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডে ফ্রেম ড্রপ হয়, উচ্চ রিফ্রেশ রেট এখনো অনুপস্থিত। যদিও গেমিং-ফোকাসড অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো দীর্ঘমেয়াদে ভালো পারফরম্যান্স দেয়, তবু আইফোনে বেশি সুবিধাজনক।
ইউটিউব
ইউটিউবের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে বারবার বাগ দেখা যায়। অনেক সময় ভিডিও খুললে শুধু কালো স্ক্রিন দেখা যায়, কিন্তু অডিও বাজতে থাকে। পিকচার-ইন-পিকচার কাজ করে না বা নিয়ন্ত্রণ সাড়া দেয় না। এমনকি কখনো শর্টস ভিডিওর অডিও অ্যাপ বন্ধ করার পরও চলতে থাকে, যা বন্ধ করতে জোর করে অ্যাপ বন্ধ করতে হয়। আইফোনে এসব সমস্যা তুলনামূলক কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েডের ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইস, অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের ফ্র্যাগমেন্টেশন, ভিন্ন চিপসেট, কাস্টম ইউজার ইন্টারফেস ও কনফিগারেশন অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য অপ্টিমাইজেশন কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে অ্যাপলে সীমিত ডিভাইস ও কঠোর নকশা নীতিমালা থাকায় আইওএসে অ্যাপগুলো বেশি পরিশীলিত হয়। গুগল প্লে স্টোরে যদি কঠোর মানদণ্ড আর নকশার নীতিমালা চালু করা হয়, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এর আগ পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের বিকল্প অ্যাপ খুঁজে নিতে হবে।






















