২০২৫ সাল শেষে বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই বা জেনএআই স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীদের ব্যয় দাঁড়াবে ২৯৮ দশমিক ২ বিলিয়ন বা প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার। অর্থের এ পরিমাণ ২০২৫ সালের মোট এআই খরচের ২০ শতাংশ দখল করবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি আশা করছে, জেনএআই খাতে ব্যবহারকারীদের বিনিয়োগ ক্রমান্বয়ে বাড়বে এবং স্মার্টফোন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
জেনএআই হলো এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, যা নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে পারে; যেমন লেখা, ছবি, ভিডিও, গান বা কোড। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা অন্যান্য এআই চ্যাটবট ও ছবি তৈরির সিস্টেমই মূলত জেনএআই। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেখা, ছবি, ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরি করতে পারে জেনএআই স্মার্টফোন। এসব ফোন ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজকে দ্রুত ও সহজ করে তোলে, যেমন স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ, চ্যাটবট সহায়তা বা ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা। জেনএআই প্রযুক্তির সুবিধা এসব স্মার্টফোনকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে এবং স্মার্টফোন বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
গার্টনারের সংজ্ঞানুযায়ী, জেনএআই স্মার্টফোন হলো এমন ফোন যার মধ্যে নিউরাল ইঞ্জিন বা নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (এনপিইউ) থাকে। ফলে ডিভাইসটি স্মল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল চালাতে সক্ষম হয়।
সংস্থাটির পূর্বাভাসে উচ্চমানের স্মার্টফোন ও সাধারণ ফোন (৩৫০ ডলারের নিচে) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সাধারণ ইউটিলিটি ফোনগুলো (কল, এসএমএস বা খুব সীমিত ফিচারের জন্য ব্যবহৃত) অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ এগুলোর মধ্যে সাধারণত এনপিইউ সক্ষমতা থাকে না।
গার্টনারের সিনিয়র ডিরেক্টর রঞ্জিত অটওয়াল বলেন, ‘এখনো বেশির ভাগ মানুষ এআই ব্যবহারের সময় লিখে বা স্ক্রিনে চাপ দিয়ে (টাচ) কাজ করছেন। এখনো ভয়েস নির্দেশনা কম ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে যখন এআই আরো স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করতে সক্ষম হবে, তখন মানুষ এটিকে শুধু নির্দেশ মেনে কাজ করা সরঞ্জাম হিসেবে দেখবেন না। বরং একটি সক্রিয় ও সহায়ক ডিজিটাল সহচর হিসেবে ব্যবহার করবেন।’
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলো এখন প্রায় সব স্মার্টফোনেই জেনএআই মডেল ও অ্যাপ্লিকেশন সংযুক্ত করছে। ফলে গার্টনারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা আগামী বছর জেনএআই ফোনে ব্যয় করবে প্রায় ৩৯৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি।
সংস্থাটির প্রত্যাশা, ২০২৯ সালের মধ্যে সব প্রিমিয়াম স্মার্টফোন জেনএআই সক্ষম হবে।
রঞ্জিত অটওয়াল বলেন, ‘নতুন এনপিইউ থাকায় স্মার্টফোনে আরো দ্রুত ও দক্ষভাবে কাজ করবে জেনএআই ফিচার।’
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এআই ৩৬০ সার্ভিস প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী বিক্রীত স্মার্টফোনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ হবে জেনএআই প্রযুক্তিনির্ভর। ৪০ কোটি ইউনিটের বেশি ডিভাইস ২০২৫ সালে জেনএআই নিয়ে স্মার্টফোনের বাজারে আসবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচটি স্মার্টফোনের মধ্যে একটি জেনারেটিভ এআই সক্ষম ছিল। চিপসেট প্রযুক্তির উন্নতি ও আরো দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (এলএলএম) আবির্ভাবের কারণে স্মার্টফোনে জেনএআইয়ের ব্যবহার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।





















