দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি (পিসিবিএ) রপ্তানিকারক প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গৌরব অর্জন করেছে কোম্পানিটি। এই সাফল্যকে শুধু ওয়ালটনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতে যেখানে দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশ থেকে চড়া দামে পিসিবি আমদানি করতে হতো, সেখানে ওয়ালটনের এই রপ্তানি দেশের হাই-টেক শিল্পে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল।
ওয়ালটন যুক্তরাষ্ট্রের Safepro Technologies Inc.-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের সরবরাহ করা অত্যাধুনিক পিসিবি ও পিসিবি অ্যাসেম্বলি (PCBA) জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি, যেমন Soteria System-এ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি উদ্ভাবন ও প্রকৌশলের সক্ষমতাকে প্রমাণ করে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ১,০০০-এরও বেশি পিসিবিএ ইউনিট সফলভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে ওয়ালটন গ্রিসেও ১০,০০০-এর বেশি পিসিবিএ ইউনিট রপ্তানি করেছিল।
বিশ্বব্যাপী প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের (PCBA) একটি বিশাল বাজার রয়েছে, যার বর্তমান আকার প্রায় ৮০-৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্সের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এই বাজার আরও বড় হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এখানে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়ালটনের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি উচ্চমানের পিসিবিএ উৎপাদন, গবেষণা ও নকশার সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। সরকারের সঠিক নীতি সহায়তা, প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা গেলে, আগামী দশকে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই চেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওয়ালটনের এই সাফল্য তাদের একটি বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স ও আইটি সল্যুশন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।






















